‘কোরআনের হাফেজ’ দৃষ্টিহীন নারীকে নিয়মিত ধর্ষণ চিকিৎসকের

418

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর বাঁধে আশ্রিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক বিধবা নারী ধর্ষণ ও গর্ভপাতের মামলা করার পর গ্রামছাড়া হয়েছেন।

মামলার অভিযুক্ত স্থানীয় ডাক্তার উত্তম কুমার ও তার লোকজনের ভয়ে ওই নারী বসতভিটা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভুতবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওই বিধবা নারী গত চার বছর ধরে ভুতবাড়ি বাঁধের ওপর একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসছিল। তিনি কোরআনের হাফেজ। স্থানীয় শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

অসুস্থ হয়ে একই গ্রামের চিকিৎসক উত্তম কুমারের কাছে চিকিৎসা নিতে যান তিনি। চিকিৎসা দেওয়ার অজুহাতে ওই ডাক্তার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুললে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এ অবস্থায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর গর্ভের ভ্রুণ নষ্ট করার জন্য ঔষধ সেবন করান উত্তম কুমার। পর দিন সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে এ ঘটনা তিনি তার বাবার কাছে প্রকাশ করেন। এরপর মেয়েটির দিনমজুর বাবা বাদী হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন।

উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, ‘বাঁধে আশ্রিত মেয়েটি বসতঘর নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। তবে মেয়েটি স্বেচ্ছায় অন্যত্র গেছে নাকি তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এ বিষয়টি আমার জানা নেই।’

অভিযুক্ত উত্তম কুমার বলেন, ‘দৃষ্টিহীন মেয়েটি আমার বিরুদ্ধে ধষর্ণের মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল। মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি। সে স্বেচ্ছায় কাজিপুরের পরানপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে চলে গেছে।’

তবে স্থানীয়রা জানান, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পরানপুর গ্রামে গিয়ে মেয়েটির পরিবারের লোকজনের দেখা পাননি তারা।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ডাক্তারি পরীক্ষায় দৃষ্টিহীন মেয়েটিকে ধর্ষণ ও তার গর্ভের ভ্রুণ নষ্টের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তবে মেয়েটি গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে কি না তা আমার জানা নেই।’