পঞ্চগড়ের আকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য নিয়ে শরতের আকাশে আবারও উঁকি দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। গত রবিবার থেকে পঞ্চগড় জেলা থেকে দেখা যাচ্ছে মনোমুগ্ধকর কাঞ্চনজঙ্ঘার পর্বত চূড়া। বিগত কয়েকবছরের মত চলতি বছরেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন উপলক্ষ্যে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের জন্য তাই এখন থেকেই প্রস্তুত হচ্ছে পঞ্চগড়।
হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম এবং পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম এই পর্বত চূড়াটির কিছু অংশ ভারতের সিকিম এবং কিছু অংশ নেপালে অবস্থিত। নয়নাভিরাম এই পর্বতের চূড়া উপভোগের আদর্শ জায়গা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার টাইগার হিল। তাইতো প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে যায় সেখানে। তবে কেউ কেউ সান্দাকপু বা ফালুট কিংবা নেপালে গিয়ে সরাসরি দেখে আসে এই চূড়া।

পাসপোর্ট ভিসার ঝামেলা এড়িয়ে যারা কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য করতে চান পঞ্চগড় তাদের জন্য আদর্শ জায়গা। মেঘমুক্ত ও কুয়াশামুক্ত আকাশ থাকলে পঞ্চগড়ের প্রায় সব এলাকার ফাঁকা জায়গা থেকেই দেখা মিলে এই পর্বত শৃঙ্গের। তবে তেতুলিয়ার মহানন্দা নদীর তীর থেকেই সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে দৃশ্যমান থাকে কাঞ্চনজঙ্ঘার পর্বত চূড়া। তাই বছরের এই সময়টাতে পঞ্চগড়ে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলা কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য এবার এখন পর্যন্ত ভাইরাল হয়ে ওঠেনি। তাই এখনো কাঞ্চনজঙ্ঘার পর্বত চূড়া দেখতে আসা পর্যটকদের ভীড় জমেনি এখানে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সূর্যের আলোর সাথে সময়ে সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া কখনো সাদা, কখনো গোলাপি আবার কখনো লাল রঙ হয়ে দেখা যায়। ভোরে চারপাশ যখন আবছা আঁধারে ঢাকা থাকে তখন চকচক করে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঝাপসা হয়ে সাদা রঙ ধারণ করে চূড়াটি। অনেকটা এক টুকরো বরফ খন্ড নীল আকাশে ভেসে বেড়ানোর মত দৃশ্য। আর শেষ বিকেলে আর ভোরের প্রথম আলোয় পোড়া মাটির রঙে রূপ নেয় চূড়াটি।

কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পঞ্চগড় ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য অবশ্য পঞ্চগড়ে বিনোদন কেন্দ্রের অভাব নেই। চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন পঞ্চগড়ের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মোগল স্থাপনা মির্জাপুর শাহী মসজিদ, বোদেশ্বরী পীঠ মন্দির, মহারাজা দিঘী, ভিতরগড় দুর্গ নগরী এবং দেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর ‘রকস মিউজিয়াম’।

আরো পড়ুন :  দৈনিক মাধুকর পত্রিকা বর্জনের ঘোষণা প্রেসক্লাব গাইবান্ধার