পূজামন্ডপের দায়িত্বরত পুলিশকে খাওয়াচ্ছে ‘ইসলামিয়া মাদ্রাসা’

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বোয়ালখালী এলাকা। পাহাড়ি এই অঞ্চলে রাস্তার একদিকে নারায়ণ মন্দির, উল্টো দিকে বোয়ালখালী ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। দুই ধর্মের দুই প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান মুখোমুখি। তবে সেখানে নেই কোন দ্বন্দ। আছে অপূর্ব এক বন্ধন। দুর্গাপূজা আর রাস উৎসব এই উৎসবে নারায়ণ মন্দিরের ভক্তদের ঢল নামে। স্বাভাবিক নিয়মেই এসব উৎসবে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। আর এ সময় তাদের তিনবেলা খাওয়ানোর যাবতীয় দায়িত্ব নেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, দীঘিনালার এই নারায়ণ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৯ সালে। এর প্রায় ৭০ বছর পর রাস্তার অন্যপাশে নিজেদের কাজ শুরু করে মাদ্রাসাটি। এরপর ২০০০ সালে প্রথম মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষীদের খাওয়ানোর কাজটি করে বোয়ালখালী ইসলামিয়া মাদ্রাসা। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সম্প্রীতির অনন্য এ দৃষ্টান্ত ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এবারের দুর্গাপূজায় মন্দিরে আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে না থাকলেও সেখানে নিরাপত্তায় আছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য। গত সোমবার রাত থেকে তাদের তিন বেলা খাওয়াচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসার পরিচালক আবদুল্লাহ মেহেরী বলেন, বোয়ালখালী এলাকায় সব সম্প্রদায়ের মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ধরে রেখে বসবাস করছে। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার বছর দুয়েক পর থেকেই মন্দিরের বিভিন্ন পূজায় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তিনবেলা খাওয়ানোর রীতি ধরে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলেও স্থানীয় সব সম্প্রদায়ের লোকজনকে একবেলা দাওয়াত করে খাওয়ানো হয়।