দৈনিক আস্থা | সত্য সমাজের দর্পন
আজ শুক্রবার | ১০ই জুলাই, ২০২০ ইং
| ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | সময় : রাত ৩:৪৪

মেনু

জামালপুর সদর হাসপাতালে করোনার জন্য চিকিৎসকশূন্য রোগীদের কান্না দেখার কেও নেই

জামালপুর সদর হাসপাতালে করোনার জন্য চিকিৎসকশূন্য রোগীদের কান্না দেখার কেও নেই

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০
১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
420455 বার

জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুর হাসপাতালে করোনার জন্য চিকিৎসকশূন্য রোগীদের কান্না দেখার কেও নেই।জামালপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাবে প্রতিদিনই শত শত রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই ২৫০ শয্যা জামালপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় ধস নেমেছে। গতকাল বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত এ হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল মাত্র ৮৫ জন।

সদর হাসপাতালে প্রতিদিন অন্তত ৫০০-র বেশি রোগী ভর্তি থাকে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় সহস্রাধিক রোগী। হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে থাকতে হয় রোগীদের। রোগী ও রোগীর স্বজনদের ভিড়ে হাসপাতালের কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই হতো না। কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে হাসপাতাল এখন প্রায় ফাঁকা।

জামালপুর হাসপাতালে করোনার জন্য চিকিৎসকশূন্য রোগীদের কান্না দেখার কেও নেই

গত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছে মাত্র ৮৫ জন। চারতলার অর্থোসার্জারি পুরুষ ওয়ার্ডে কোনো রোগী ভর্তি নেই। প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। পাশের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ২১টি শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দুজন, তিনতলায় পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ১৭ জন ও মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ৯ জন, দোতলায় গাইনি ওয়ার্ডে চারজন ও প্রসূতি ওয়ার্ডে ২০ জন, নিচতলায় পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চারজন এবং মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি আছে মাত্র আটজন।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে দুজন আরএমওর কক্ষসহ নারী, শিশু ও পুরুষ রোগীদের
চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য বহির্বিভাগের কোনো কক্ষেই চিকিৎসক নেই। রোগীদের তিনটি টিকিট কাউন্টার ও ওষুধ সংগ্রহের দুটি কাউন্টার বন্ধ। জরুরি বিভাগ ছাড়া গোটা হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কোনো ওয়ার্ডেই কারো দেখা মেলেনি।

হাসপাতালের এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ এবং ল্যাবেও কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীকে পাওয়া যায়নি। গোটা হাসপাতাল ফাঁকা হয়ে গেছে। শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের রোগী দেখা অনেকটাই বন্ধ রয়েছে।

এ ধরনের রোগীকে পাঠানো হচ্ছে হাসপাতাল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা মেডিক্যাল টিমের কাছে। তা ছাড়া চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে রোগীদের ফিরে যেতে হচ্ছে বাইরের ক্লিনিকগুলোতে। ফলে রোগী ও রোগীর স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে গোটা হাসপাতাল চিকিৎসকশূন্য হয়ে গেলেও প্রতিটি ওয়ার্ডে নার্স, ইন্টার্ন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, আয়া, ঝাড়ুদারদের উপস্থিতি দেখে মনে হলো তাঁরাই হাসপাতাল চালাচ্ছেন।

হাসপাতালের নার্সরা জানান, করোনাভাইরাস নিয়ে তাঁরা খুবই আতঙ্কে রয়েছেন। তাঁদের সহকারী পরিচালক, জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক এবং নার্সরাই এখন আছেন হাসপাতালে। নার্সদের জন্য কোনো নিরাপত্তা পোশাকসহ পিপিই সরবরাহ করা হয়নি। অন্য মেডিক্যাল স্টাফদেরও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পোশাকসহ কোনো সামগ্রীই সরবরাহ করা হয়নি। এ কারণে সবাইকে বেশ আতঙ্ক ও উদ্বেগ নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. গাজী রফিক বলেন, আমাদের জন্য সুরক্ষামূলক কোনো ব্যবস্থাই নেই। তাই চিকিৎসকসহ হাসপাতালের প্রত্যেক নার্সসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয়ভীতি কাজ করছে। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তাই আমরা রোগীর চাপ নিতে পারছি না।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান ফকির বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সবাই ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছি। চিকিৎসকরা একেবারেই হাসপাতালে আসছেন না, এটা ঠিক নয়। সীমিত সময়ের জন্য তাঁরা রোগী দেখছেন। তাঁরা স্টেশনেই অবস্থান করছেন।

যখন যাঁকে ডাকা হবে, তখনই তাঁরা ছুটে আসবেন। চিকিৎসকদের জন্য ইতোমধ্যে পিপিইসহ সব ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম পেয়েছি। অনেক রোগীও করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে আসা কমিয়ে দিয়েছে। জামালপুরে করোনাভাইরাস রোগী এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়নি। শনাক্ত হলে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য নার্সসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সুরক্ষা সরঞ্জামের আওতায় আনা হবে।

জামালপুরে মালয়েশিয়াফেরত এক প্রবাসীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার গুঞ্জন

 

আপনার মন্তব্য লিখুন