দৈনিক আস্থা | সত্য সমাজের দর্পন
আজ শুক্রবার | ১০ই জুলাই, ২০২০ ইং
| ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | সময় : রাত ২:৩০

মেনু

নির্জন বাড়িতে ডেকে নিয়ে সচিবের কেয়ারটেকারকে হত্যা করেন হিরোফা

নির্জন বাড়িতে ডেকে নিয়ে সচিবের কেয়ারটেকারকে হত্যা করেন হিরোফা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ১৮ মে ২০২০
৬:০৯ অপরাহ্ণ
506 বার

চারদিকে ফসলি জমি। মাঝখানে দুই কক্ষের নির্জন একটি বাড়ি। আশেপাশে আর কোনো বাড়িঘর নেই। নির্জনের ওই বাড়িতে কখন কী হয় এলাকাবাসীর বোঝার কোনো উপায় নেই।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পবির্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল হাসান মুকুলের কেয়ারটেকার মানিক মিয়াকে হত্যার জন্য বাবার ওই নির্জন বাড়িটি বেছে নেয় হিরোফা খাতুন।

ঘটনার তিন মাস পর পুলিশ উদ্ঘাটন করেছে মানিক মিয়া হত্যার মূল রহস্য। ধার নেওয়া ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের কৌশল হিসেবে হিরোফা এই হত্যা মিশন চালায়।

মানিক মিয়া শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার মৃত শাহাজ উদ্দিনের ছেলে। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের দেবীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার ঘাতক হিরোফা ও তার স্বামী লিটনকে।

আরও পড়ুন: এবার মেয়েকে হত্যার হুমকি দিলেন সেই বাবা

রোববার পুলিশের কাছে হত্যার পুরো ঘটনা বর্ণনা করে তারা জানায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে মাওনা চৌরস্তা থেকে গাজীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে বাবা আনোয়ার হোসেনের নির্জন বাড়িতে মানিক মিয়াকে কৌশলে নিয়ে যায় হিরোফা। বসত ঘরের খাটের ওপর ফেলে প্রথমে শ্বাসরোধ ও পরে গলাকেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হিরোফা ও তার স্বামী লিটন ছাড়াও এ খুনের ঘটনায় জড়িত তার বাবা আনোয়ার, ভাই সোহেল ও ভাড়াটে খুনী রেজাউল করিমকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

নিহত মানিক মিয়ার ছেলে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মিলন জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ করেই বাবা নিখোঁজ হন। কোথাও খুঁজে না পেয়ে পরদিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। এরপর বাবার সন্ধান পাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি।

মিলন বলেন, ‘বাবার কোনো মেয়ে না থাকায় হিরোফাকে তিনি ধর্মমেয়ে বানান। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুযোগে হিরোফা ব্যাংক চেকের মাধ্যমে বাবার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নেয়। এরপর থেকেই মূলত শুরু হয় সম্পর্কের অবণতি। এক পর্যায়ে ওই টাকা ফেরত পেতে বাবা আদালতে মামলাও করেন। কিন্তু কোনোভাবেই টাকা আদায় করতে পারছিলেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার পর বাবার মোবাইল থেকেই এসএমএস দিয়ে তার কাছে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলা মীমাংসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।’

আরও পড়ুন: মাদরাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, ময়লার স্তূপে লাশ

শ্রীপুর থানার এসআই আশরাফুল্লাহ বলেন, ‘হিরোফার নেতৃত্বে নির্জন ওই বাড়িতে প্রথমে শ্বাসরোধে মানিককে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পরে গলা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে লাশ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেওয়া হয়। সপ্তাহখানেক পর দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে সেখান থেকে লাশ বের করে পাশের একটি পুকুর পাড়ে পুঁতে রাখা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে গত ৩ এপ্রিল লাশটি উদ্ধার করে। নিহত মানিক মিয়ার ছেলে মিলন লাম উদ্ধারের সময় ছিলেন। কিন্তু লাশটি গলে যাওয়ায় বাবাকে শনাক্ত করতে পারেননি।’

শ্রীপুর থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ মানিক মিয়াকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। অবশেষে একটি ফোনের সূত্র ধরে প্রথমে হিরোফার ভাই সোহেলকে

মানিক মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে নামে। এরপর ঠাকুকগাঁওয়ের দেবীগঞ্জ থেকে হিরোফা ও তার স্বামী লিটকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ‘এই হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া প্রত্যেককেই পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

টানা ৬ জনের লালসার শিকার কিশোরী
১১ ডিসেম্বর ২০১৯ 891819 বার