দৈনিক আস্থা | সত্য সমাজের দর্পন
আজ রবিবার | ৩১শে মে, ২০২০ ইং
| ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সময় : রাত ২:২৫

মেনু

আশায় আছেন ডা. জাফরুল্লাহ

আশায় আছেন ডা. জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০
২:৪৬ অপরাহ্ণ
6425 বার

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট কার্যকারিতা পরীক্ষায় সফলভাবে কাজ করছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গতকাল সোমবার এ কথা বলেন তিনি।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্র্তৃপক্ষ গঠিত এ কিট পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট বিএসএমএমইউতে আমরা সরবরাহ করেছি। তারা এই কিট নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ফলাফলও আশাপ্রদ বলে আমরা জানতে পেরেছি। সোমবার তারা ৩০টি কিটের টেস্ট করেছে। সবগুলো ফলাফল সঠিক এসেছে।বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষ ‘নির্ধারিত সময়ে’ সুখবর দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ঘুষের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রকৌশলীকে হত্যা

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা এই ট্রাস্টি আরও বলেন, ‘বিশ্বে আমরা নেতৃত্ব দিতে পারতাম। পথ দেখাতে পারতাম। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যথাসময়ে সহযোগিতা না করায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি। আমাদের পরে আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশ অ্যান্টিবডি তৈরি ও তার কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। আমরা তা পারলাম না।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা গবেষণাকাজে ব্যস্ত। প্রয়োজনীয় উপকরণ পেলে একই কিট দিয়ে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে পারব। এই প্যাকেজের খরচ পড়বে মাত্র সাড়ে ৭০০ টাকা।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা কিট নেওয়ার আগে ২ মে বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষ হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক শাহীনা তাবাসসুমকে।

ওই কমিটির এক সদস্য গতকাল গনমাধ্যমকে বলেন, গণস্বাস্থ্যের কিট নেওয়ার পর আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। ফলাফলও ভালো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা ভালো রিপোর্ট দিতে পারব বলে আশা করছি।

গত বুধবার কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষের কাছে ২০০ কিট জমা দেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সেদিন ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, বিএসএমএমইউ আমাদের কাছে ২০০ কিট চেয়েছিল।

আমাদের কিট প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর ড. মহিবুল্লাহ খন্দকার ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিজন কুমার শীল মাইক্রোবায়োলজি বিভগে গিয়ে তাদের চাহিদামতো ২০০ কিট জমা দিয়েছেন। আশা করি, দ্রুত এটার ফলাফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন: জনগণের পাশে সেরা ১০ জনপ্রতিনিধি

তিনি আরও বলেছিলেন, কিটের সঙ্গে পরীক্ষার খরচ বাবদ ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা পরে নেওয়ার কথা বলেছে বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষ। তাও জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৩০ এপ্রিল জাতীয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গণস্বাস্থ্যকে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি দেয়। বিএসএমএমইউ অথবা আইসিডিডিআরবিতে কিট পরীক্ষা করতে বলা হয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিএসএমএমইউতে কিট পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

অ্যান্টিজেন তৈরির কাঁচামাল বিমানবন্দরে আটকে : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের অ্যান্টিজেন তৈরির কাঁচামাল ১৭ দিন ধরে বিমানবন্দরে পড়ে আছে। জাতীয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমতি না দেওয়ায় তা ছাড় করানো যাচ্ছে না।

গতকালও আমাদের প্রতিনিধি গিয়েছিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে। কিন্তু প্রতিনিধিকে ফেরত পাঠিয়েছে। আগামীকাল (আজ) আবার যেতে বলেছে। যত দ্রুত কাঁচামাল ছাড়ের অনুমতি দেবে, তত দ্রুত আমরা অ্যান্টিজেন তৈরি করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরা করোনা কিট দিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারও অনুমতি পাইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

১১২টি আইসিইউ বেড মাত্র!
০৭ এপ্রিল ২০২০ 200447 বার