দৈনিক আস্থা | সত্য সমাজের দর্পন
আজ শনিবার | ৬ই জুন, ২০২০ ইং
| ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সময় : রাত ১২:০১

মেনু

অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে নিয়ে সাতদিনে ১২শ কিলোমিটার পাড়ি কিশোরীর

অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে নিয়ে সাতদিনে ১২শ কিলোমিটার পাড়ি কিশোরীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শুক্রবার, ২২ মে ২০২০
১:৪৭ অপরাহ্ণ
484 বার

অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে নিয়ে সাতদিন ধরে ১২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন ১৫ বছরের কিশোরী জয়তী কুমারী। লকডাউনে ‍ভারতের গুরুগাঁয়ে আটকে পড়ার পর সেখানে থেকে সাইকেলের পেছনে বাবাকে বসিয়ে বিহারে নিজের বাড়ি ফিরেছেন তারা।

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ খবর জানিয়ে বলা হচ্ছে, কিশোরী জয়তী যে সাতদিন অসুস্থ বাবাকে নিয়ে নিজ বাড়ির পথে সাইকেলে প্যাডেল চালিয়েছেন, এরমধ্যে দুইদিন তারা না খেয়ে ছিলেন।

জয়তীদের বাড়ি বিহারে। তার বাবা গুরুগাঁয়ে রিকশা চালাতেন। সেখান থেকে অর্জিত টাকা তিনি বাড়িতে পাঠালে তাই দিয়ে চলে সংসার। কিন্তু গত মার্চে তার বাবা মোহন পেশওয়ান এক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। এরপর বাবাকে নিতে সেখানে গিয়ে আচমকা লকডাউনে আটকে পড়েন জয়তী।

লকডাউনে বাবার সঙ্গে থেকে যেতে বাধ্য হয় জয়তী। কোনো কাজ নেই, অর্থ নেই, খাবারও নেই তার ওপর তার বাবা যেখানে থাকতেন তার মালিক ভাড়া না পেয়ে বের করে দেয়ার হুমকি দিতে শুরু করেন। না খেয়ে থাকতে থাকতে অবশেষে সাইকেলে করে এভাবেই বাড়ির পথে রওয়ানা দেন তারা।

মোহন পেশওয়ান বলেন, ‘কিছু টাকা ছিল। ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে তাই দিয়ে খাবার কিনতাম। মেয়েসহ একবেলা খেতে পারতাম। কিন্তু বাড়িওয়ালা টাকার জন্য জোরাজুরি শুরু করে। আমি তাকে বলি যে, লকডাউন তুলে নিলে আমি তার সব বকেয়া পরিশোধ করবো। কিন্তু তিনি তা মানছিলেন না।

বিহারের গ্রামে জয়তীয় আরও ভাইবোনকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তার মা। তিনিও দিনমজুরের কাজ করতেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে কাজ বন্ধ। তার ওপর জয়তীর বাবা দুর্ঘটনায় আহত। তাই তিনি নিজের কাছে থাকা কিছু গহনা বিক্রি করে সেই টাকা পাঠিয়েছিলেন স্বামীর চিকিৎসার জন্য।

লকডাউনে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে বিদেশ-বিভূঁইয়ে এমন করে পরে থাকার পর জয়তী সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি ফিরবেন। সঙ্গে বাবাকে নিয়েই। তাই কিছু টাকা এর ওর কাছ থেকে ধার করে কম টাকায় একটা সাইকেল কেনেন। কিন্ত মেয়ের এমন কথা শোনার পর বাবা প্রথম দিকে তাতে বাধা দেন।

বাড়ির দূরত্বের কথা মাথায় রেখে তিনি মেয়েকে এমনটা না করার পরামর্শ দেন। কিন্তু শেষে মেয়ের জেদের কাছে হার মানতে হয় তাকে। বাবাকে রাজি করানোর পর জয়তী সাইকেলের পেছনে তাকে বসিয়ে টানা সাতদিন ১২শ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরেন তারা।

এই খবর শোনার পর ভারতীয় সাইক্লিং ফেডারেশন থেকে পরীক্ষা নেয়ার উদ্দেশে আগামী মাসে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর তাতে যাদি শেষ পর্যন্ত টিকে যায় তাহলে হয়তো দিনমজুর বাবার আয়ে চলা তাদের কষ্টের সংসার কিছুটা হলেও সুখের আভাস মিলবে।

দৈনিক আস্থা/জাহিদ

অন্তত শিশুদের তো টার্গেট করেনি, ধর্ষকের পক্ষে প্রেমিকা

আপনার মন্তব্য লিখুন

ধেয়ে আসছে শিলাবৃষ্টি
২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ 143093 বার