দৈনিক আস্থা | সত্য সমাজের দর্পন
আজ শনিবার | ৬ই জুন, ২০২০ ইং
| ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সময় : রাত ১:১৪

মেনু

গণপরিবহন শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

গণপরিবহন শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

মোহাম্মদ ইমরান হোসেন
শুক্রবার, ২২ মে ২০২০
১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
34 বার

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় দুই মাসের সাধারণ ছুটিতে মানবেতর জীবন যাপন করছে দেশের প্রায় ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিক।

আরো পড়ুনঃশ্রমিকদের দুর্দিনে খোঁজ নেই শাজাহান খান-রাঙ্গার

 

দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এসব খেটে খাওয়া মানুষ। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, অভাব অনটনে দিন কাটলেও এখনও কোনো সহায়তা মেলেনি মালিক, শ্রমিক সংগঠন কিংবা সরকারের তরফ থেকে।

অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, সংগঠনের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা সম্ভব নয়। দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে।

 

 

ছোট একটি রুমে ৩ সদস্যের পরিবার নিয়ে বেশ যাচ্ছিল বাস চালক বেলাল হোসেনের যাপিত জীবন। কিন্তু মহামারী করোনা পাল্টে দিয়েছে সবকিছু । মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল দাপিয়ে বেড়ানো এই চালকের এখন পরিবারের মুখে ৩ বেলা খাবার তুলে দেয়াই দায়।

বাস চালক বেলাল হোসেন বলেন, ‘কোটি কোটি কাটা চান্দা কাটছে। এখন কই সকলে। আমাদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি।’

আরো পড়ুনঃরাণীনগরে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে দুইজন শ্রমিক নিহত, আহত একজন

ঈদকে সামনে রেখে ৫ বছরের ছোট শিশুর আবদার শুনলে ঘোর অমানিশায় পড়ে যান বেলাল।

বেলাল বলেন, ‘বাচ্চা বলে বাবা বাবা মার্কেটে যাবো, পয়সা নেইতো কিভাবে যাব?’

ঠিক এভাবেই দিন কাটছে দেশের প্রায় ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকের। নিয়মিত চাঁদা দিয়ে আসলেও এই মহাদুর্যোগে মিলছে না সহায়তা।

পরিবহন শ্রমিকদের একজন বলেন, ‘আগেতো দিন আনতাম দিন খাইতাম। এখনতো সে অবস্থা নেই।’

আরেক শ্রমিক বলেন, ‘কোনো রোডে ৪’শ-৫শ কোনো রোডে হাজার বারোশো পর্যন্ত চাঁদা কালেকশন করা হয়।’

তবে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন সবাই। সরকারি সহায়তা ছাড়া কিছু করতে না পারার গতানুগতিক অজুহাত তাদের।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, ‘৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকদের শ্রমিক ইউনিয়নগুলো একা সহযোগিতা করতে পারবে নাতো। সরকারি প্রণোদনা দরকার, সরকারি সাহায্য দরকার।’

জেলা পর্যায়ে পরিবহন শ্রমিকদের সরকারের আর্থিক সহায়তা পাইয়ে দিতে জেলা প্রশাসক বরাবর তালিকা প্রেরণ করছে বলেও দাবি তাদের।দৈনিক আস্থা/ইমু

আপনার মন্তব্য লিখুন