ধর্ম

সুস্থতা ও সবার আগে জান্নাত লাভের আমল

সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। মহামারি করোনাসহ যে কোনো রোগ-ব্যধিতে প্রথম প্রতিষেধক হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অবলম্বন করা। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস এবং পিপিই ব্যবহারের কথা না বলে সবার আগে ‘নিয়মিত ভালোভাবে হাত ধোয়া’র ঘোষণা দেন।

হাত ধোয়ার মানে হলো হাতকে জীবাণুমুক্ত করা। মুমিন মুসলমান কোনো প্রয়োজন ছাড়াই প্রতিদিন ন্যুনতম ৫ বার নামাজের উদ্দেশ্যে ওজু মাধ্যমে এ কাজটি করে থাকে। আর এ ওজুতে মানুষের দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। থাকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। আর দৈহিক ও আত্মিকভাবে সুস্থ থাকতে ইসলামের নির্দেশনা এমনই। আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন বলেন কুরআনে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে (পবিত্র অবস্থায় থাকে) তাদেরকে ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২২২)

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেড় হাজার বছর আগে বলে গেছেন, ‘তোমরা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম উভয় হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেবে।’

আবার দিনের বিভিন্ন সময়ে যেমন খাবার গ্রহেণের আগে ও পরে এবং ওজুর সময় উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়াকে সুন্নাত মনোনীত করেছেন। এক হাদিসে বলেছেন-

’খাওয়ার আগে এবং পরে হাত ধোয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।’

তাই হাত ধোয়ার বিষয়টি সুন্নাত হিসেবে মেনে চললে মানুষের জন্য তা দুই দিক থেকেই কল্যাণ ও বরকতের হবে। একটি হলো সুন্নাত পালনের সাওয়াব অন্যটি হলো সুস্থ জীবন লাভের সাওয়াব। কেননা অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতা মর্যাদা দেয়ার ঘোষণাও রয়েছে হাদিসে।
সে কারণে সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতায় পবিত্রতা এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অনেক বেশি। এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পবিত্রতা অর্জনের উপকারিতা শুধু দুনিয়ায় নয়। বরং পরকালেও রয়েছে অসামান্য উপকারিতা।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, শুধু মহামারি করোনাসহ সব রোগ-ব্যধি থেকে বাঁচতে কিংবা সুস্থ থাকতে এবং সবার আগে জান্নাতে যেতে সব সময় পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে থাকার পরিপূর্ণ চেষ্টা করা। কেননা কুরআনুল কারিমের অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন-

‘আল্লাহ তাআলা ওই সব বান্দাকে ভালোবাসেন, যারা অধিক মাত্রায় পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকে।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ১০৮)

দুনিয়ার ‍সুস্থাতার পর এসব পবিত্রতা অর্জনকারীদের জন্য আখেরাতের ঘোষণা আরও চমৎকার। হাদিসের ভাষায় তা সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে-

একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন, গতকাল তুমি কিভাবে আমার আগে বেহেশতে প্রবেশ করলে? হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই আমি আজান দেই, তখনই আমি দু’রাকাআত নফল নামাজ আদায় করি। আর যখনই (আমার) ওজু ছুটে যায়, তখনই নতুন করে ওজুর সঙ্গে থাকার চেষ্টা করি।’

তাই সুস্থ থাকতে এবং পরকালের কল্যাণ লাভে পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অবলম্বনে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিসের নির্দেশ মেনে চলা সবার জন্য জরুরি। আর তাতে সবাই থাকবে নিরাপদ।

তাছাড়া পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্ন থাকা আল্লাহর হকের শামিল। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মর্মে তা বর্ণনা করেন যে, ন্যুনতম সপ্তাহে একবার গোসল করা, মাথা ও শরীর ধুয়ে নেয়া। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহুআনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সব মুসলমানের ওপর আল্লাহর এ হক আছে যে, প্রতি সপ্তাহে (অন্ততঃ) একদিন গোসল করবে এবং মাথা ও শরীর ধুয়ে নেবে।’ (বুখারি)

সর্বোপরি কথা হলো-

পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। পরিষ্কার ও পবিত্রতার গুরুত্বের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্রতা অর্জনের বিস্তারিত পথ নির্দেশ দিয়েছেন। সে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তি পরিবার সমাজের সবার উচিত-

– নিজের শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখা।
– চলাফেরা ও উঠাবসায় পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা।
– পোশাক তথা ব্যবহারের জামা-কাপড় পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখা।
– বাসা, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় কিংবা রান্না-বান্নার ঘরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখা।
– এমনকি রান্না করার হাড়ি-পাতিলও এসব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার তালিকায় সর্বাগ্রে থাকা।

তবেই যাবতীয় রোগ-ব্যধি থেকে মানসিক ও আত্মিক সুস্থতা, প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা লাভ করা সম্ভব। আর তাতে ফিরে আসবে স্বাস্থ্য দেহের আনন্দ ও সজিবতা। দুনিয়ার উপকারিতা লাভের পাশাপাশি সুনিশ্চিত হয়ে যাবে পরকালে সবার আগে জান্নাতের যাওয়া সৌভাগ্য।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার যাবতীয় মহামারি ও রোগ-ব্যধি থেকে মুক্ত থাকার এবং সবার আগে জান্নাত লাভ করার জন্য পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে থাকার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।