খবর খেলাধুলা

এবার সাকিবের মা-ও করোনায় আক্রান্ত

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বাবার পর এবার মা শিরিন রেজা (৫০) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মাগুরায় সাকিবের মা’সহ নতুন করে নয়জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

মাশরুর মিরিন রেজার শরীরে উপসর্গ না থাকায় তাকে হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

মাগুরা সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রদীপ কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘বৃহস্পতিবার সাকিবের মা শিরিন রেজাসহ নয়জনের শরীরে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ছয়জন পৌর এলাকার ও সদর উপজেলার তিনজন বাসিন্দা রয়েছেন।’

আরও পড়ুন: সাকিবের পরিবারে করোনার হানা

শিরিন রেজা গত ২০ জুলাই করোনা পরীক্ষা করতে নমুনা দেন। বৃহস্পতিবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে তার করোনা পজেটিভ এসেছে। এর আগে সাকিবের বাবা মাগুরা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা মাশরুর রেজা কুটিল গত ১৯ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন।

মাগুরা থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন পিসিআর ল্যাবে ২ হাজার ৫২৭ জনের সন্দেহজনক নমুনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৪৬ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৫ জন। সুস্থ হয়েছে ১৯২ জন। করোনায় ৮ জন মারা গেছে।

সাকিব আল হাসানের বাবা মাশরুর রেজা কুটিল বলেন- তারা দু’জনেই শহরের সাহাপাড়াস্থ নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। সামান্য কিছু উপসর্গ ছাড়া দুজনই সুস্থ আছেন বলেও জানান তিনি।

মনে হল, এটাই হয়তো ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আমার শেষ দেখা: মাশরাফি

গত মাসের ২০ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

দীর্ঘ ২৪ দিনের লড়াই শেষে গত ১৪ জুলাই করোনা থেকে সেরে ওঠেন তিনি। সম্প্রতি দেশের এক গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

কথাপ্রসঙ্গেই উঠে এসেছিল মাশরাফীর দুই সন্তান হুমায়রা ও সাহেলের প্রসঙ্গ। তখন মাশরাফী জানান, করোনা পজিটিভ আসার পরের দিনই দুই সন্তানকে নড়াইল পাঠিয়ে দেন তিনি।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘বাচ্চাদের বিদায় জানালাম ২১ জুন। এর চেয়ে কষ্টের অনুভূতি বুঝি আর নেই।’

নড়াইলে পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করে মাশরাফী বলেন, ‘ওদেরকে নিরাপদে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো। ঢাকার বাসায় রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতো। নড়াইল পাঠিয়ে দিলাম। ক্রিকেট খেলতে সফরে যাওয়ার সময় ওদেরকে বিদায় জানানোর অভিজ্ঞতা তো অনেক আছে। এবার পুরো ভিন্ন। দেশেই আছি কিন্তু ওদের কাছে থাকতে পারব না!’

মাশরাফী যোগ করেন, ‘এটা এমনই এক রোগ যে ওদেরকে একটু জড়িয়ে ধরা তো বহুদূর, কাছাকাছিও যেতে পারছি না। হুমায়রা দূর থেকে আমাকে বিদায় জানানোর সময় কেঁদেই ফেলল। আমি কীভাবে নিজেকে সামলালাম, জানি না। ওদের মা নিচ পর্যন্ত গেল গাড়ীতে তুলে দিতে। বিদায় দিয়ে এসে বলল, সাহেল প্রচুর কান্নাকাটি করেছে যাওয়ার সময়। ছোট্ট ছেলে, বাবা-মা দুজনকেই ছাড়া থাকেনি আগে।’

মানসিকভাবে সে সময়ের পরিস্থিতি বর্ণনা করে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, হুট করেই আমার মনে হলো, এমনও তো হতে পারে যে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে এটি আমার শেষ দেখা! ভেতরটায় কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।’

এই দুঃসময়ে মাশরাফীর বাসায় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী সুমি। টাইগারদের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়কের সহধর্মিণীও আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। তবে দুজনই এখন পুরোপুরি সুস্থ আছেন।