ধর্ম

প্রস্তুত মক্কা, স্বর্ণখচিত গিলাফ পরানো হবে বৃহস্পতিবার

মাত্র কয়দিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের সীমিত পরিসরের হজ। এ উপলক্ষে মক্কা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার তারা হজের সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সে লক্ষ্যে বাড়তি কর্মীও তারা নিয়োগ দিয়েছে।

আরব নিউজের বরাতে জানা যায়, এবারের হজকে সামনে রেখে মক্কা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ১৮ হাজার ৪৯০ জন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। হাজিদের সব সুবিধা নিশ্চিতেই বাড়তি কর্মী নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। নতুন করে আরো ২৮টি সার্ভিস সেন্টার খুলেছে মক্কা কর্তৃপক্ষ। সেখানে হাজিদের জন্য সব রকম সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতার জন্য ১৩ হাজার ৫০০ জন পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োজিত করা হয়েছে। হজ চলাকালীন এসব কর্মী ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। তারা মক্কা, মিনা, আরাফা ও আশপাশের জায়গাগুলোতে কাজ করে যাবে। হাজিরা যে যে স্থানে যাবেন সেসব স্থানের বিভিন্ন জায়াগায় ৮৭ হাজার ৯০০ ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।

হজ চলাকালীন ওই এলাকার মার্কেট, সুপারশপ, খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্টের ওপর বিশেষ নজর রাখবে মনিটরিং দল। এছাড়া মুদি দোকান, সেলুন ও লন্ড্রিগুলোতেও থাকবে বিশেষ নজরদারি।

এই মনিটরিং দল হজের সময় পণ্যের দাম ও স্বাদ পরখ করে দেখবে। কোনো অসামঞ্জস্যতা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া সড়াইখানাগুলোকে সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতায় পৌঁছানোর দায়িত্ব নিয়েছে তারা। সে লক্ষ্যেই তারা এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

মক্কার মেয়র মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-কুওয়াইহিস বলেন, সৌদি সরকার এ বছর সীমিত আকারে হজ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব পরিকল্পনাও সে মোতাবেক করা হয়েছে। মক্কা পৌসরভা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে হাজিরা শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে হজের সব কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না আশা করা যায়।

আগামী বৃহস্পতিবার হজের দিন কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হবে। গত শুক্রবার এ ঘোষণা দেন কাবা শরিফের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি। খবর সৌদি গেজেট।

প্রতিবছরই নির্দিষ্ট সংখ্যক শিল্পী বছরব্যাপী একান্ত শ্রম ও প্রচেষ্টায় স্বর্ণখচিত এ নতুন গিলাফ তৈরি করে থাকেন। আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের এ নতুন গিলাফ ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। কাবা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল আজিজ বিন আব্দর রহমান আস-সুদাইসি এ গিলাফ গ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হবে।

বৃহস্পতিবার ১৬০ জন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদ পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ পরানোর কাজে অংশগ্রহণ করবেন। এ প্রক্রিয়াটি প্রতি বছর ৯ জিলহজ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

প্রতি বছরের এ দিনটিতে হজে অংশগ্রহণকারীরা আরাফাতের ময়দানে হজের আনুষ্ঠানিকতায় মগ্ন থাকেন। আর পবিত্র কাবা শরিফ নতুন কিসওয়ায় সজ্জিত হয়। হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসা হাজিরা দেখতে পান নতুন গিলাফে সজ্জিত পবিত্র কাবা শরিফ।

কাবা শরিফের কিসওয়া তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে ৬৭০ কেজি খাঁটি সিল্ক। যা কালো রঙের হয়। ১২০ কেজি সোনায় মোড়ানো সুতা। ১০০ কেজি রূপার সুতা। ৪৭ খণ্ডে বিভক্ত এ গিলাফে কাবার শরিফের চারদিক আবৃত করে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য মক্কার নিকটবর্তী উম্মুল জুদ এলাকায় কাবার গিলাফ তৈরির একটি কারখানা রয়েছে। যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রমিক সারা বছর কাবার গিলাফ তৈরির কাজে নিয়োজিত থাকেন।

পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ তৈরিতে প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। আর পুরোনো গিলাফকে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন দেশের ইসলামিক স্কলার, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উপহার হিসেবে দেয়া হয়।

কাবা শরিফ এ গিলাফ দিয়ে আচ্ছাদন কখন বা কার উদ্যোগে শুরু হয় সেই সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রে বলা হয়েছে, হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম প্রথম পবিত্র কাবা শরিফ গিলাফ দিয়ে আচ্ছাদন করেন। ভিন্ন আরেকটি বর্ণনায় আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্বপুরুষ আদনান ইবনে আইদ পবিত্র কাবা শরিফ প্রথম গিলাফ দিয়ে আচ্ছাদিত করেন।

main-ads.jpg

তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, হিমিয়ারের রাজা তুব্বা আবু বকর আসাদ পবিত্র কাবা শরিফ গিলাফের মাধ্যমে আচ্ছাদনকারী প্রথম ব্যক্তি।