জাতীয়

অস্ত্র আইনের মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. শায়রুল ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম (‌সিএমএম) আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেছেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয় শাহেদকে। পরদিন করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্টসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডে থাকা শাহেদকে নিয়ে গত ১৮ জুলাই রাতে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে প্রথম দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৬ জুলাই আরও পৃথক চার মামলায় তার সাত দিন করে ২৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলায় শাহেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৬ জুলাই শাহেদের নিয়ন্ত্রণাধীন উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতাল এর দুটি শাখায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা টেস্টের রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। ওই দিনই রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখাকেই সিলগালা করেন সারওয়ার আলম। সন্ধ্যায় ওই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর সাহেদের একের পর এক অপকর্ম প্রকাশ পায়।

গ্রেপ্তার স্পটে সাহেদ

সাতক্ষীরার দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের শাখরা কোমরপুরে গ্রেপ্তারের স্পটে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদকে নিয়ে গেছে র‌্যাব।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে লাবন্যবতী নদীর ওপর কোমরপুরের বেইলি ব্রিজের উপর তাকে নেওয়া হয়। এরপর উৎসুক সাধারণ মানুষকে সরিয়ে স্থানীয় ক্যামেরাপার্সন ও সাংবাদিকদের ব্রিজ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে সরিয়ে ৫-৭ মিনিট কথাবার্তা বলে আবারো শাহেদকে গাড়িতে ওঠানো হয়।

এ সময় সাহেদের মুখমন্ডল ছিল হেলমেটে ঢাকা, গায়ে ছিল গেঞ্জি ও র‌্যাবের নিরাপত্তা জ্যাকেট। ব্রিজের উপর থেকেই আবার গাড়িতে উঠিয়ে ফের খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় র‌্যাব।
তদন্তের স্বার্থে র‌্যাব উপস্থিত সংবাদকর্মীদের কোনো ধরনের প্রশ্ন করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলেন।

তদন্তের স্বার্থে র‌্যাবের পক্ষ থেকে কিছু না জানানো হলেও দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সাহেদ করিম মাঝে মধ্যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের এসআই রেজাউল ইসলাম জানান, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তা এখন প্রকাশ করা সমীচীন হবে না।

র‌্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি বজলুর রশীদ জানান, সাহেদ করিমকে আগামী ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা আদালতে সোপর্দ করা হবে।

main-ads.jpg

আমি তদন্তে বিশ্বাসী নই, হায়ার অ্যান্ড ফায়ারে বিশ্বাসী: তাপস