অপরাধ খবর

জেলে থেকেই চলছে মতিঝিল-পল্টনে সম্রাটদের রাজত্ব

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া মতিঝিল পল্টন এলাকার ক্লাব পাড়া, ক্যাসিনো, টেন্ডারসহ সকল ধরণের কন্সট্রাকশন কাজ থেকে সম্রাটরা মোটা অঙ্কের টাকার ভাগ পেতো। এবং এটা প্রধানমন্ত্রীর কানে পর্যন্ত যায়।

প্রধানমন্ত্রী তাকে এক বৎসর আগে সতর্ক করলেও কথা শুনেননি সম্রাট। পরে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হলে প্রথম দিনই রাজধানীর ইয়াংমেনস ফকিরাপুল ক্লাবে অভিযান চালানো হয়।

আর সেখান থেকে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক (পরে বহিষ্কার করা হয়) খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচার আইনে আলাদা মামলা করে র্যাব। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর আলোচনায় আসে সম্রাটের নাম।

তবে তাঁকে গ্রেপ্তারে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সহযোগী আরমানসহ সম্রাটকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়। মাদক পাওয়ায় আরমানকেও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এবং এই শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে সেই সময়ে মতিঝিল আরামবাগ এলাকা চাঁদাবাজ মুক্ত হয়। এরপর সম্রাট ও খালেদ তাঁদের দুইজনকেই গ্রেফতার করা হয়। এখন তারা জেলে রয়েছে। কিন্তু পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে আবারও মতিঝিল এলাকায় সম্রাটদের রাজত্ব শুরু হয়েছে। সম্রাটের লোকজনেরা তার নামে চাঁদাবাজি করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সেইসাথে সম্রাটের গ্রেফতার হওয়ার পর এই প্রথম আবার তার ক্যাডারদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এবং খালেদ মাহমুদ ভূইয়া জেলে থাকলেও তাদের ক্যাডাররাই এখন যুবলীগের হর্তাকর্তা। এবং এদের সঙ্গে সম্রাটেরও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০১৯ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। পরদিনই চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক সপ্তাহ পর মাদক, অস্ত্র ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার আসামি সম্রাটকে নেয়া হয় কাশিমপুর কারাগারে।

২৪ নভেম্বর বুকে ব্যথার কথা বলে কারাগারের চিকিৎসকের পরামর্শে আবারও তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে সম্রাটের অনুসারীরা তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্রাটও স্বপ্ন দেখছেন তার হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পাওয়ার।

main-ads.jpg

সম্রাট এখন দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালেই অবস্থান করছে। রাজকীয় জীবনযাপন করছে। এবং জেল থেকেই সম্রাট ও খালেদের নির্দেশনায় বিভিন্ন টেন্ডারসহ নির্মাণ কাজের ভাগ বাটোয়ারা চলছে। ক্যাসিনো ব্যবসা বন্ধ হলেও এই সমস্ত কাজের মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসা অক্ষুন্ন রেখেছে সম্রাটরা।