খবর জাতীয়

তাপসকে খুশি করতে মরিয়া ওয়াসার এমডি

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

আর একারণেই তাসকিমের এখন প্রধান টার্গেট তাপসকে খুশি করা এবং তাপসের মন জয় করা। এটাই এখন ওয়াসার এমডির মূল মিশন।

ওয়াসার এমডি হিসেবে তাকসিম ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং তারপর থেকেই তিনি এক চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কায়েম করেছেন। তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কেউ ছিলনা এবং তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে যেমন পাত্তা দেননা, পাত্তা দেননা সিটি করপোরেশনের মেয়রদেরকেও। আর এরকম বাস্তবতাতেও ওয়াসার এমডি একের পর এক পুনঃ নিয়োগ পেয়েছেন এবং তিনি যেন সকলের জবাবদিহিতার উর্ধ্বে পৌঁছে গেছেন।

কেউই বলতে পারতো না যে ওয়াসার এমডির এই ক্ষমতার উৎস কি। তিনি কাউকেই পাত্তা না দিয়ে কিভাবে দিনের পর দিন ওয়াসায় রাজত্ব করছেন। এই সময় ওয়াসায় সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা চরম স্থানে পৌঁছে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র ওয়াসার এমডিকে চ্যালেঞ্জ জানান এবং তিনি এমডির দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। অবশ্য এর আগেও প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক, সাঈদ খোকনও ওয়াসার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন কিন্তু তাঁরা শেষ পর্যন্ত কিছুই করতে পারেননি।

শেখ ফজলে নূর তাপস স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে নিয়ে হাতেনাতে ওয়াসার দায়িত্বহীনতা এবং কোন কর্মকাণ্ড না করার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে তিনি কঠিন অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এই অবস্থায় ওয়াসার এমডির জন্যে করণীয় একটিই ছিল, তা হলো অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করে ওয়াসাকে একটি সত্যিকারের জনবান্ধব এবং জনকল্যাণকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করে ফেলা। ওয়াসার অধীনে যে সমস্ত প্রকল্পে লুটপাট হয়েছে সে সমস্ত লুটপাট বন্ধ করা এবং ঢাকায় জলাবদ্ধতাসহ যে সমস্ত সঙ্কটগুলো আছে সেগুলোর সমাধানে আন্তরিক হওয়া। কিন্তু ওয়াসার এমডি সে পথে যাননি, গিয়েছেন ভিন্ন পথে।

যেকোন উপায়ে তাঁর চেয়ার রক্ষার জন্য তিনি দেখেছেন যে, এখন তাঁর চেয়ার টলমল হয়ে যেতে পারে শুধুমাত্র ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের কারণে। কারণ শেখ ফজলে নূর তাপস অন্য আর ১০ টা সাধারণ মেয়রের মতো নয়। ওয়ান ইলেভেনের পর রাজনীতির পাদপ্রদীপে আসা এই তরুণ নেতা স্পষ্টবাদী এবং তিনি যেটা বলেন সেটা আদায় করতে দ্বিধা করেন না। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর আস্থা এবং বিশ্বাস তাঁর উপরে রয়েছে এবং এখানেই উৎকণ্ঠায় পড়েছেন তাসকিম।

তিনি মনে করছেন যে, তাপস যদি তাঁর ব্যাপারে অসন্তুষ্ট এবং ক্ষুদ্ধ্ব হয় তাহলে তাঁর ওয়াসার রাজত্বের অবসান হতে পারে। আর এজন্যেই তাঁর এখন একটাই মিশন, তা হলো তাপসকে খুশি করা।

জানা গেছে যে, ওয়াসার এমডি ইতিমধ্যে ঢাকা দক্ষিণে কি কি ধরণের কাজ আছে এবং কোন কোন কাজগুলো দ্রুত করা যায় সে ব্যাপারে তাঁর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং একইসাথে তিনি তাপসের সঙ্গে যাঁদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছেন। তাঁদের মাধ্যমে তিনি তাপসকে খুশি করতে চান। তবে তাপসের ঘনিষ্ঠরা বলেছেন যে, ওয়াসার এমডির ব্যাপারে তাপসের কোন ক্ষোভ বা আক্রোশ নেই। তাপসের দরকার শুধুমাত্র তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো পূরণ করা। এই অঙ্গীকারগুলো পূরণে যারা বাঁধা হয়ে আসবে তাঁদের বিরুদ্ধেই তাপস কঠোর অবস্থানে যাবেন।

কারণ প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি পালন না করার যে সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতি থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে বের করে আনতে চান শেখ ফজলে নূর তাপস। আর এই কারণেই শেষ পর্যন্ত তাককিমের প্রয়াস সফল হবে কিনা তা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে।

main-ads.jpg

তবে অনেকেই মনে করেন যে, ওয়াসার এমডি অনেক পাকা খেলোয়াড় এবং তিনি তাপসকে বশীভূত করার সব ধরণের চেষ্টাই করবেন। এখন তাপসকে বশীভূত করার যে প্রকল্প সেই প্রকল্প সফল হয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।