আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের শাসনকে অন্ধকার যুগ বললেন বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলকে ‘অন্ধকার যুগ’ বলে মন্তব্য করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে ডেমোক্র্যাটদলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দলের সম্মেলনের শেষদিনে বাইডেন এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এক অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। দ্রুত সেই দিন কাটবে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবিরের এবারের নির্বাচনকে ‘আলোর সঙ্গে অন্ধকারের লড়াই’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন তিনি।

বাইডেনের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে রিপাবলিকান দলীয় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বাইডেনের বক্তব্য শুধুই কথার কথা। আজ পর্যন্ত কোনো কথাই কাজে পরিণত করতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে শেষ হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের চার দিনের সম্মেলন। এবারের ভার্চুয়াল সম্মেলনে সবশেষ বক্তৃতা করেন ৭৭ বছর বয়সী বাইডেন। ওবামার সঙ্গে দুই মেয়াদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলানো বাইডেন নির্বাচনের আগে এ সম্মেলনে কী বার্তা দেন, সে দিকে চোখ ছিল সকলের।

অর্ধ শতাব্দীর রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে বাইডেন জানালেন, দেশের মানুষ তাকে নির্বাচিত করলে কোন বিষয়গুলি নিয়ে সর্বপ্রথম কাজ করবেন তিনি। প্রথমেই করোনা পরিস্থিতির উল্লেখ করেছেন তিনি। বাইডেনের অভিযোগ, যে প্রক্রিয়ায় বর্তমান প্রশাসন করোনা মোকাবিলা করেছে, তা যথেষ্ট নয়।

তার বক্তব্য, চাইলে এই পরিস্থিতির হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বাঁচানো যেত। তিনি ক্ষমতায় এলে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন বলে কথা দিয়েছেন বাইডেন। একই সঙ্গে বাইডেন আরো জানিয়েছেন, ফেডারেল কাঠামো মাথায় রেখেই গোটা দেশে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করবেন।

ট্রাম্পের শাসনামলকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ বলে অভিহিত করে বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল রয়েছে একজন একনায়কের হাতে। যদি তিনি নির্বাচিত হতে পারেন এই পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্তি পাবে।

বাইডেনের বক্তৃতা বক্তৃতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রতিক্রিয়ায় কড়া ভাষায় টুইট করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বাইডেন গত ৪৭ বছর ধরে কেবল মুখেই বড় বড় কথা বলেছেন। কাজের কাজ কিছুই করেননি।

চার দিনের সম্মেলনের শেষদিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা বাইডেনের রানিংমেট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে কমলা হ্যারিসের নামও। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এও এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনমত জরিপে এখনও ট্রাম্পের চেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে বাইডেন-হ্যারিস জুটি। করোনা সামলাতে ব্যর্থ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা অনেকটা কমেছে। তবে শেষ মুহূর্তে নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

ভোটে জেতার জন্য একের পর এক সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ফের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন কিনা, নাকি বাইডেনের ভাগ্যে ৭৭ বছর বয়সে শিকে ছেঁড়ে, তা জানা যাবে নভেম্বরের ৩ তারিখে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে, রয়টার্স