বিনোদন

সুশান্তের মৃত্যুর দিন ফ্ল্যাটে যারা ছিলেন!

ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্ত। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই মুম্বাই এসে পৌঁছেছিল সিবিআইয়ের তদন্তকারী দল। শুক্রবার সকাল থেকেই তারা শুরু করে দিয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়া। সুশান্তের কর্মচারীদের মধ্যে শুক্রবার সকালে প্রথম জেরা করা হয় তার রাঁধুনিকে। সান্তাক্রুজে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের অফিস ও বায়ুসেনার গেস্ট হাউসে ডেকে পাঠিয়ে জেরা করা হয় তাকে।

১৪ জুন সুশান্তের দেহ উদ্ধার হয় বান্দ্রায় তার ফ্ল্যাট থেকেই। সেদিন কোন কোন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন সুশান্তের সঙ্গে? কেনই বা তাদের মধ্যে কারও চোখে কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি অভিনেতার আচার আচরণে? এমনই সব নানা প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। বান্দ্রায় একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে থাকতেন সুশান্ত। নীচের তলার প্রশস্ত হল ঘর ছিল এবং উপরের তলায় ছিল তিনটি বেডরুম। তার মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই রিয়া চক্রবর্তী ফ্ল্যাট ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও সেই মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন আরও চার জন।

নীরজ সিং (রাঁধুনি/হেলপার)  
২০১৯ সালের ১১ মে থেকে সুশান্তের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে থাকছেন নীরজ সিং। ইতোমধ্যে তার বয়ান রেকর্ড করেছে বিহার ও মুম্বাই পুলিশ। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-ও নীরজের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। সুশান্তের মৃত্যুর পরই অন্য একটি কাজে যোগ দিলেও এখন নীরজ কর্মহীন।

কেশব বচন (রাঁধুনি)
গত দেড় বছর ধরে সুশান্তের কাছে কাজ করছিলেন কেশব। থাকতেনও সুশান্তের ফ্ল্যাটেই। তবে অভিনেতার মৃত্যুর পর কারও সঙ্গে কোনও কথা বলেননি কেশব। তার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপও বন্ধ। সুশান্তের বান্দ্রা অ্যাপার্টমেন্টের কাছেই কেশবের বাড়ি। মুম্বাই পুলিশ তার বয়ান রেকর্ড করেছিল। এবার সিবিআই-এর কাছেও জবানবন্দি দিতে হবে তাকে।


দীপেশ সাওয়ান্ত
হাউসকিপিং এবং অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের দায়িত্বে ছিলেন দীপেশ। মিডিয়ার সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনও কথাই বলেননি তিনি। চেম্বুরে পরিবারের সঙ্গে থাকেন দীপেশ। তার পরিবার অবশ্য জানিয়েছেন, মিডিয়ার ক্রমাগত প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় থাকছেন। তবে মুম্বাই পুলিশের কাছে তিনি বয়ান রেকর্ড করেছেন। সিবিআইও তাকে ডেকে পাঠাবে।

সিদ্ধার্থ রামনাথমূর্তি পিঠানী
হায়দরাবাদের বাসিন্দা সিদ্ধার্থ। এর আগে সিদ্ধার্থ অভিযোগ করেছিলেন সুশান্তের পরিবার বার বার তার উপর চাপ সৃষ্টি করছে রিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যে। লকডাউনের সময়ে সুশান্তের সঙ্গে তারই ফ্ল্যাটে থাকছিলেন সিদ্ধার্থ। একটি ভার্চুয়াল কনটেন্ট সংস্থা শুরু করার পরিকল্পনা ছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের। সেখানেই সিদ্ধার্থকে কাজের অফার দিয়েছিলেন অভিনেতা। ইতোমধ্যে মুম্বাই পুলিশ এবং ইডির কাছে বয়ান রেকর্ড করেছেন সিদ্ধার্থ।