খেলাধুলা

যে কারনে পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জিতবে বায়ার্ন

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের ধ্রুপদী ফাইনালে ফ্রেঞ্চ জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে মাঠে নামবে জার্মান পাওয়ার হাউস বায়ার্ন মিউনিখ। ফুটবল প্রেমিদের জন্য জমজমাট এক লড়াই যেন অনেকক্ষণ করে বসে আছে পর্তুগালের লিসবনে।

শক্তি-সামর্থ্যের বিচারে বায়ার্ন মিউনিখ ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) দুই দলই বলতে গেলে সমানে সমান। বিধ্বংসী এই দুই দলের মধ্যে কাউকেই ফেভারিট বলা ঠিক হবে না। আরও ম্যাচটি যখন স্বপ্নের ফাইনাল তখন যে কোন দলই হারিয়ে দিতে পারে অন্য যেকোন দলকে!

তবে ভিন্নকথা বলছে বুন্দেসলিগার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। তাদের মতে পিএসজির চেয়ে কয়েকটি কারনে এগিয়ে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। এবং ম্যাচ শেষে এই কারন গুলোর উপর ভর করেই এবারের শিরোপা জিতবে বাভারিয়ানরা।

পিএসজির চেয়ে বায়ার্নের এগিয়ে থাকার কারণগুলো দেখে নিন এক পলকে:

লেভানদোস্কির নেতৃত্বে আগুনে আক্রমনভাগ

‘গোলম্যাশিন’ খ্যাত রবার্ট লেভানদোস্কি চলতি মৌসুমে শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই করেছেন ১৫ গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা এবার ৫৫ ছুঁয়েছে।

তদুপরি লেভানদোস্কিই জার্মান দলটির একমাত্র অস্ত্র নয়। সার্জি গ্যানাব্রির কথা ভুলে গেলে চলবে না! সেমিফাইনালে জোড়া গোল করে গ্যানাব্রি পিএসজিকে যেন সে বার্তাই দিয়ে রেখেছেন। গ্রুপ পর্বে টটেনহ্যামের বিপক্ষে একাই ৪ গোল করেছিলেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে তৃতীয় সর্বাধিক ৯ গোল তার।

বার্সেলোনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে টমাস মুলার-ফিলিপে কুটিনহো উভয়ে করেছিলেন জোড়া গোল। তাদেরকে হিসাবের বাইরে রাখার উপায় নেই পিএসজি ডিফেন্ডারদের।

বায়ার্নের ‘রোড রানার’ আলফোন্সো ডেভিস

এই সেদিনও তিনি ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের যুব দলের খেলোয়াড়। এখন হয়ে উঠেছেন মূল দলের রক্ষণভাগের অন্যতম সেরা অস্ত্র।

শুধু কি রক্ষণ? ১৯ বছর বয়সী ডেভিস গতি আর স্কিলেও নজর কেড়েছেন সবার। বর্তমানে বুন্দেসলিগার দ্রুততম (২২.৭ কি.মি/ঘণ্টা) খেলোয়াড় তিনি। সতীর্থরা তার নাম দিয়েছে ‘রোড রানার’। বার্সেলোনার বিপক্ষে জশোয়া কিমিখের করা পঞ্চম গোলটিতে ডেভিসের অ্যাসিস্ট ছিল চোখধাঁধানো। লিওনেল মেসি ও আর্তুরো ভিদালকে পরাস্ত করার পর ডিবক্সে বার্সা ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদোকে ঘোল খাইয়ে কিমিখকে পাস দেন ডেভিস।

টানা ২৮ জয় ও ৯৭ গোল

ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে বায়ার্ন। গত বছরের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ২৯ ম্যাচের ২৮টিতেই জিতেছে তারা (একটি ম্যাচ ড্র করেছে)। গোল দিয়েছে ৯৭টি। হজম করেছে মাত্র ২২টি!

সমৃদ্ধ ইতিহাস

ঐতিহ্যের দিক দিয়েও পিএসজির চেয়ে বেশ এগিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ। এর আগে ১০ বার ফাইনাল খেলে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা (১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৯৭৬, ২০০১ ও ২০১৩)।

অন্যদিকে পিএসজি এবারই প্রথম ফাইনাল খেলছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তাদের সাফল্য বলতে ১৯৯৬  উয়েফা কাপ উইনার্স কাপ ও ২০০১ ইন্টারটটো কাপ জয়। ফলে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে বায়ার্ন।

মাস্টার মশাই হ্যান্সি ফ্লিক

গত বছরের নভেম্বরে বায়ার্নের দায়িত্ব নেন ৫৫ বছর বয়সী জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। নিকো কোভাচের অধীনে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া বায়ার্ন ফ্লিকের ছোঁয়ায় আমূল বদলে যায়।

হাইলাইন ডিফেন্স, প্রেসিং, ওয়ান-টাচ অ্যাটাকে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ওলট-পালট করে দিচ্ছে দলটি। যেমনটি দেখা গেছে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৮-২ গোলের জয়ে। এমনকি সেমিফাইনালে লিঁওর বিপক্ষেও একই কৌশল প্রয়োগ করে সফল ফ্লিক। সঙ্গে বল পজিশনটাও গুরুত্ব দেন তিনি। লিঁওর বিপক্ষে ৬৪ শতাংশ বল দখলে রাখে বায়ার্ন। পাস খেলেছে প্রায় তাদের দ্বিগুণ।

ফ্লিক ইতিমধ্যেই বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জিতিয়েছেন বায়ার্নকে। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতলে ২০১৩ সালে হেইঙ্কেসের পর বাভারিয়ানদের দ্বিতীয় কোচ হিসেবে ট্রেবল জয়ের কৃতিত্ব দেখাবেন তিনি।

এই সকল কারন বিবেচনায় নিয়ে বায়ার্নের পক্ষে বাজি ধরায় যায়।