খবর

পণ্য পরিবহনের জন্য ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কিনছে রেলওয়ে

বাংলাদেশ রেলওয়ে পণ্য পরিবহনের জন্য ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কিনবে বলে জানা গেছে। চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই লাগেজ ভ্যান কিনতে খরচ হবে মোট ৩৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে ৭৫টি মিটারগেজ ভ্যান কিনতে ১৮৩ কোটি ২৪ লাখ এবং ৫০টি ব্রডগেজ ভ্যান কিনতে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা লাগবে।

এ লক্ষ্যে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নবাব আব্দুল গণি রোডে রেলভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং চীনের জয়েন্ট ভেঞ্চার অব সিনটিক-রেলটেকো-জিনজি’র মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন্স ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং সিনটিকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এবং জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির প্রতিনিধি ইয়ং বিং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় এই লাগেজ ভ্যানগুলো সরবরাহ করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এ সময় রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা ৭৫টি মিটারগেজ লাগেজ ভ্যান এবং ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করছি। করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, লাগেজ ভ্যান কিনে কৃষকের পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নাও। এ বিষয়ে আমাদের চিন্তাটা হয়তো সেভাবে সক্রিয় ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা লাগেজ ভ্যান চালু করি।

তিনি বলেন, আমরা এবার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম পরিবহন করেছি। আগামীতে অন্যান্য স্থান থেকেও আম পরিবহন করতে পারব। লাগেজ ভ্যানের মাধ্যমে কৃষিপণ্য পরিবহন করা হলে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে, ক্রেতাও সঠিক দামে পণ্য কিনতে পারবে। কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই লাভবান হবে।

আরো পড়ুনঃ একতরফাভাবে চীন পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করছেঃ ভারত

রেলপথমন্ত্রী বলেন, আশা করি চীন উন্নত ও কাঙ্ক্ষিত মানের লাগেজ ভ্যান আমাদের সরবরাহ করবে। এগুলো যেন সময়মতো আমরা পেতে পারি তাদের সেই অনুরোধ করব।

চুক্তির ২০ মাসের মধ্যে লাগেজ ভ্যান সরবরাহ শুরু হবে এবং ২৭ মাসের মধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন হবে। দুই বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টির সময় ধরা হয়েছে বলেও জানান রেলমন্ত্রী।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বলেন, ‘রেলওয়ের কাছে বর্তমানে ১০টি ব্রডগেজ এবং ৩৫টি মিটারগেজ লাগেজ ভ্যান আছে। এগুলো অনেক পুরনো। নতুন ভ্যানগুলো সংগ্রহের পর কৃষি পণ্য পরিবহন করা গেলে কৃষক তার পণ্যের ভালো দাম পাবে। এর মাধ্যমে নতুন একটা কালচার শুরু হতে যাচ্ছে।

৫০টি ব্রডগেজ ভ্যানের মধ্যে ১২টি রেফ্রিজারেটেড এবং ৭৫টি মিটারগেজ ভ্যানের মধ্যে ১৬টি রেফ্রিজারেটেড ভ্যান আছে বলেও জানান মহাপরিচালক।

এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।