Bangladesh Dhaka

রাজধানীতে নকল ভোগ্যপণ্যের কারখানার সন্ধান

চিনি গুড়া চাল, সয়াবিন তেল কিংবা ডিটারজেন্ট পাউডারসহ ১৪ ধরনের নকল পণ্য তৈরি করছিলো রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার দুইটি কারখানা। তারা অনুমোদন ছাড়াই খোলাবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করে প্যাকেটজাত করে সেসব পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করে আসছিলো।

এমনকি ভারতীয় ঘড়ি ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন পণ্যের নকল মোড়ক ব্যবহার করে সেসব পণ্য বাজারজাত করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলো। নকল ডিটারজেন্ট, সাবান এবং ভেজাল খাদ্যদ্রব্য তৈরি ও বিক্রির দায়ে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানাসহ ৪ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ভ্রাম্যমান আদালত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান এলাকার দুটি প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

আরো পড়ুনঃ রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস

ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু জানান, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও র‌্যাব-২ এর সহায়তায় এম আর কনজ্যুমার প্রডাক্টস ও সাফা রেজাফুড এন্ড কনজ্যুমার লিমিটেড কারখানায় অভিযান চালানো হয়।

সাফা রেজা ফুড এণ্ড কনজুমার লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চিনিগুড়া চাল, চিনি, লবণ, কয়েল, চিপস, সয়াবিন তেল, চা পাতা, সরিষার তেলসহ প্রায় কোটি টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে।   এই প্রতিষ্ঠানের কোন ধরনের অনুমোদন ছিল না। কিন্তু তারা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের লোগো ব্যবহার করে আসছিল।

এছাড়া এম আর কনজ্যুমার প্রডাক্টস নামের অপর একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে একই চিত্র পাওয়া গেছে। তারা একটি পণ্যের নামে লাইসেন্স নিয়েছিল যার মেয়াদ ১ বছর আগেই শেষ। কিন্তু তারা দেশ-বিদেশের নামিদামি বিভিন্ন ব্রান্ডের ওয়াশিং পাউডার প্যাকেটজাত করে আসছিল, যা সবই নকল।

এইসব পণ্যের কাঁচামাল তারা খোলাবাজার থেকে সংগ্রহ করে প্যাকেটজাতের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। অভিযানের সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের পাশাপাশি বিশেষ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

এ সময় সাফা রেজা ফুড অ্যান্ড কনজুমারে কর্মরত পাঁচ জনের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। এম আর কনজ্যুমার প্রডাক্টসে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দুইজনকে এক বছর কারাদণ্ড এবং দুইজনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠানকেই সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।