Bangladesh অপরাধ

হ্যামার দিয়ে দুর্বৃত্তরা মাথার পেছনে আঘাত করেছে, দাবি আহত ইউএনও’র বাবার

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে (৩৫) রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়েছে।ওয়াহিদা খানমের বাবা জানান হ্যামার দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ওয়াহিদা খানমকেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওয়াহিদা খানমের বাবা ওমর আলীকেও আহত অবস্থায় ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওপর হামলা,আহত ২

সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি আর আমার মেয়ে উপরের ঘরে থাকি। বাসার উপরের দরজা সব খোলাই থাকে। হামলা করার পর আমি ধস্তাধস্তি করি, একপর্যায়ে ও আমার ঘাড়ের পিছনে হ্যামার দিয়ে আঘাত করে। তারপর আমি মাটিতে পড়ে যাই। তারপর বলল চাবি দে, তখন আমি বলেছি চাবি কোথায়, সেটা তো আমি জানি না বাবা। তারা বলে, চাবি না দিলে তোর নাতিকে মেরে ফেলবো। তারপর চাবি পাওয়ার পর কি নিল আর নিল না সেটা আমি বলতে পারবো না। পরে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে নেমে গেল।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে পিটিয়ে আহত করে দুষ্কৃতিকারীরা। গুরুতর অবস্থায় তাদের প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওয়াহিদা খানমকে রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হয়। তার বাবাকে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, তার মাথার বাম পাশে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাম হাত ও পা কোনো রকম সাড়া দিচ্ছে না। হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঘোড়াঘাট থানার ওসি এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওয়াহিদা খানমের বাবার নাম ওমর আলী। নওগাঁ থেকে মাঝে মাঝে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলী। ওয়াহিদা খানমের স্বামী মেজবাহুল হোসেন রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাদের তিন বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। হামলার সময় শিশুটি ঘুমন্ত ছিল। বর্তমানে সে ভালো আছে।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহমুদুল আলম জানান, আনুমানিক রাত ৩টার দিকে ঘরের ভেন্টিলেটর দিয়ে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে। প্রথমে তার বাবাকে আহত করে পাশের ঘরে বাথরুমে আটকে রাখে। পরে ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়িভাবে তাকেও পিটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

মূলত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা জেলা প্রশাসকের। ঘটনার পর জেলা প্রশাসকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা-ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, প্রথমে নির্বাহী কর্মকর্তার বাবাকে আহত করে বাথরুমে আটকে রাখে। এরপর নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বাসভবনের নাইট গার্ডকে তালা দিয়ে আটকে রাখে। কাজের মেয়েও নিচে ছিল।

এটি কোনো ডাকাতি ছিল না, সম্ভবত হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।