Bangladesh Technology

২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ৫জি সুবিধা: মোস্তাফা জব্বার

২০২৩ সালের মধ্যে দেশের শহর অঞ্চলে ৫জি সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগোযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

এই সময়ের মধ‌্যে দেশের উদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহেও ৫জি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।  পাশাপাশি দেশের শিক্ষা কার্যক্রমেও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর কথা জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ‌্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব‌্যে এ কথা বলেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের অর্থনীতি কৃষির ওপর অধিকহারে নির্ভর থাকলেও আজকে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখছি। জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে হলে, জনগণের কাছে তথ্য-প্রযুক্তির সেবা দ্রুত পৌঁছাতে হবে।  যা গ্রহণের সক্ষমতা বাংলাদেশের জনগণের আছে।  কোভিড-১৯ মহামারিতে এটা প্রমাণিত হয়েছে এবং বর্তমানে মহামারির সময়ে দেশের টেলিকম খাত মানুষকে সর্বাত্মক সেবার চেষ্টা করেছে।

তিনি জানান, ২০০৮ সালে বাংলাদেশে ৮ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতো, যেখানে ৮ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হতো, বর্তমানে দেশে ২১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে এবং এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা বাড়াতো হতে পারে।

সভাপতির বক্তব‌্যে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়নসহ সর্বোপরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং আমাদের শিল্প খাতে এ বিপ্লবের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগী করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সেবা প্রাপ্তির বিষয়টি খুব স্বল্পসময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে।  তবে এ খাতের প্রয়োজনীয় অগ্রগতির জন্য আমাদের প্রস্তুতি এখনও কাঙ্খিত মাত্রায় নয়। এ লক্ষ্যে তিনি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তাবিত শিল্পনীতিতে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা থাকা খুবই আবশ্যক বলে মত প্রকাশ করেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরাগ বলেন, এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন পণ্য তৈরি করছে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে নতুন পণ্য উৎপাদনের যেমন সুযোগ তৈরি করবে, সেই সাথে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এ সুযোগ গ্রহণে আমাদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও তার বস্তাবায়ন করতে হবে।

ওয়েবিনার সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনির্ভাসিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সহযোগী অধ্যাপক সাজিদ আমিত।

পাঠাও-এর সভাপতি এবং চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ফাহিম আহমেদ বলেন, ৬০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে পাঠাও অ্যাপের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করছে।  গত ৫ বছরে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে এবং এখাতে বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর জন্য মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করতে হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক সিরাজুল হায়দার বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি  মোকাবিলায় এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের অংশ হিসেবে উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের লক্ষ্যে ‘অনলাইন মার্কেট প্লেস’ তৈরির কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

বিজিএমইএ এর পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করে, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজস্ব ব্রান্ড তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি এর প্রভাবে দেশে স্বল্প দক্ষ মানবসম্পদের কর্মসংস্থান হারানোর বিষয়টিকে মোকাবিলা করার জন্য স্বল্প দক্ষ জনবলকে তাদের নিজস্ব খাতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আলোকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলতে হবে।

ইউনিডো-এর বাংলাদেশস্থ আবাসিক প্রতিনিধি জাকি উজ্জ জামান বাংলাদেশে গবেষণা কার্যক্রমে আরো বেশিহারে বরাদ্দ প্রদান, সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তাবয়নে সরকার এবং বেসরকারীখাতের মধ্যে আরো সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোরারোপ করেন।