Bangladesh

পিতৃপরিচয়হীন শিশুর ‘আকিকা’ দিলেন ওসি আশিকুর রহমান

এ কে আজাদ,রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধিঃ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার ওসি মোঃ আশিকুর রহমান তিনি একের পর এক মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন। ওসিকে ‘স্যার’ সম্বোধন বন্ধ, যৌনকর্মীর মৃত্যুর পর জানাজা পড়িয়ে দাফনে ব্যবস্থা, পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রত্যন্ত গ্রামে গাছতলায় ‘জনগণের দরবার’ বসিয়ে অফিস করা, ঈদের দিন প্রথমবারের মতো পতিতাপল্লীর যৌনকর্মীদের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণের পর এবার ধর্ষণের শিকার হয়ে কুমারী মায়ের জন্ম দেওয়া শিশুসন্তানের ‘আকিকা’ অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার সেই ওসি মো. আশিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার নিজ উদ্যোগে তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার আদর্শগ্রাম মহল্লার অসহায় এক কুমারী মায়ের তিন মাস বয়সী শিশু ছেলে আব্দুল্লাহ ওমরের ‘আকিকা’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।

আরো পড়ুনঃ বাবা হওয়ার অনুভূতি একেবারেই ভিন্ন, ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়: কোহলি

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে আকিকা অনুষ্ঠান ওই কুমারী মায়ের বাবার বাড়িতে (আদর্শগ্রাম) অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিকসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

এ সময় স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন রনি বলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার বর্তমান ওসি একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর এমন মহৎ ও মানবিক উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই কুমারী মায়ের জন্ম দেওয়া সন্তানের আকিকা নিয়ে এলাকায় পক্ষে-বিপক্ষে নানা গুঞ্জন চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে আমি অসহায় ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছি। এলাকার বিশিষ্টজনদের সঙ্গে আলাপ করে সবার সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ওই কুমারী মায়ের ছেলেসন্তানের আকিকা সম্পন্ন করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আরো বলেন, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’- বাংলাদেশ পুলিশের এই স্লোগান বাস্তবে রূপ দিতে হলে পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য দেশ ও দশের স্বার্থে পুলিশ-জনতার দূরত্ব কমিয়ে আনা খুব জরুরি। এই উপলব্ধি থেকেই ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমি মানবিকতার পথে হাঁটছি।

উল্লেখ্য, গোয়ালন্দ পৌরসভার আদর্শগ্রাম মহল্লার মৃত নবু মণ্ডলের কাঠমিস্ত্রি ছেলে দুই সন্তানের জনক ইয়াছিন মণ্ডল (৩৪) একই মহল্লার হতদরিদ্র এক রিকশাচালকের ১২ বছরের কন্যাকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি স্থানীয় ইদ্রিসিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাঁর মা এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। এক বছর আগে তাকে জোর করে ধর্ষণ করে ইয়াছিন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ওই ছাত্রী গত জুন মাসে এক ছেলেসন্তান প্রসব করে। এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা মামলায় ধর্ষক ইয়াছিন মণ্ডল গ্রেপ্তার হয়ে এখন জেলহাজতে।