আন্তর্জাতিক

করোনার টিকা নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান ডব্লিউএইচও’র

রাশিয়ার তৈরি কোভিড ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক-ফাইভ’ এর ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবী সবার শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। মেডিক্যাল সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। আর যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি টিকা ট্রায়ালের অপেক্ষায় আছে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন দ্রুতই পাওয়া যাবে এর ফলাফল।

করোনার দাপটে নাজেহাল গোটা বিশ্ব। দেশে দেশে চলছে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা। গত মাসে বিশ্বের প্রথম টিকা হিসেবে স্পুটনিক ফাইভের অনুমোদন দেয় রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মেয়ের শরীরেও প্রয়োগ করা হয় এ ভ্যাকসিন। এরপর পশ্চিমা দেশগুলো ভ্যাকসিনটি কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এবার মেডিক্যাল সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ‘স্পুটনিক-ফাইভ’ এর ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের সবার শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার ভ্যাকসিন নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এটি। শুক্রবার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাকসিনটি নিয়ে ৪২ দিন করে দুটি ট্রায়াল চালানো হয়েছে। প্রতিবার অংশ নিয়েছেন ৩৮ জন স্বেচ্ছাসেবী।

এ প্রকাশনার মধ্য দিয়ে পশ্চিমাদের তীর্যক প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাশিয়া।


কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি বলেন, ‘এই টিকার প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা খুব সহজেই বোঝা যাবে, যা দু বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে।’

রাশিয়ার টিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যুক্তরাষ্ট্রও এ বছরের পহেলা নভেম্বরের মধ্যে করোনার টিকা বিতরণের জন্য সব অঙ্গরাজ্যকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে। তাড়াহুড়ো করে ভ্যাকসিন বিতরণ নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা আদায়ের জন্যই, এমন অভিযোগ উঠেছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তিনি শুক্রবার নতুন করে বললেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি টিকা ট্রায়ালের অপেক্ষায় আছে। যার ফলাফলও খুব কম সময়ের মধ্যেই পাওয়া যাবে।

তবে যতক্ষণ না নিরাপদ প্রমাণ হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিনই অনুমোদন দেবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়াসুস। একইসঙ্গে তিনি টিকা নিয়ে জাতীয়তাবাদ রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের আগ পর্যন্ত টিকা সহজলভ্য হবে না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়াসুস বলেন, ‘কিছু দেশের সব মানুষকে টিকা না দিয়ে সব দেশের কিছু মানুষকে টিকা দেয়াটা জরুরি। আমি বিশ্বকে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে চাই যে নিরাপদ আর কার্যকর প্রমাণিত হলেই কেবল টিকার অনুমোদন দেয়া হবে। অনেকেই টিকার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তাদের কথায় কান দেবেন না।’

করোনার টিকার বিরুদ্ধে লেগেছেন নানা সময় করোনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। তিনি বলেছেন, টিকা নেয়ার জন্য কাউকে বলপ্রয়োগ করা উচিত হবে না।