Bangladesh Dhaka

চাকরির খোঁজে এসে দগ্ধদের সারিতে বরিশালের কেনান

‘রাফি বাবা কইবে কারে..রে’, চিৎকার করে বলছেন আর দুই হাত দিয়ে বুকে থাপড়াচ্ছেন নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ কেনানের ফুফু। ২৪ বছর বয়সী এ যুবক এক সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জে চাকরি খুঁজতে আসেন।

কেনানের বাড়ি বরিশালের রাঙ্গাবালী উপজেলায়। তিন বছর আগে খাদিজা নামে একজনকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের আড়াই বছরের একটি ফুটফুটে সন্তানও রয়েছে, যার নাম রাফি।

আরো পড়ুন: মসজিদে বিস্ফোরণ: মুয়াজ্জিনের পর চলে গেলেন ইমামও,মৃত্যু ২০

কেনানের ফুফুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেনান নারায়ণগঞ্জের আনোয়ারা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। করোনার সময়ে চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে যান। এক সপ্তাহ আগে ফের নারায়ণগঞ্জে চাকরি খুঁজতে আসেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে ভাতিজার সন্ধানে বার্ন ইউনিটে ছুটে আসেন কেনানের ফুফু। এ সময় তাকে বিলাপ করতে দেখা গেছে। কেনানের সন্তান রাফির নাম ধরে চিৎকার দিয়ে তিনি বলছেন ‘রাফি বাবা কইবে কারে, ও কেনান রে’। এভাবেই দুই হাত দিয়ে বুকে থাপড়াচ্ছেন আর চিৎকার করছেন।

আরো পড়ুন: মসজিদে বিস্ফোরণে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, বাবার স্বপ্ন ধূলিসাৎ

কেনানের ফুফু বলেন, এ দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। কেনান আমার কাছে থাকতো। তার স্ত্রী খাদিজা গ্রামের বাড়ি থাকেন। আমার ভাতিজা জীবিত না মৃত সেই খবরও জানি না।

কেনান দুই ভাই এক বোনের মধ্যে বড়। তার বাবা-মা সবাই জীবিত থাকলেও পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস কেনান।

আরো পড়ুন: নারায়ণগঞ্জের ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও অক্ষত পবিত্র কোরআন

শুক্রবার এশার নামাজের সময় নারায়ণগঞ্জ সদরের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণ হয়। এতে কেনানসহ ৪০ মুসল্লি দগ্ধ হন। রাতেই কেনানকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।