Bangladesh Barishal

দুমকিতে সরকারি বরাদ্দের নলকূপ বিক্রির অভিযোগ

সোহাগ হোসেন, দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি বরাদ্দের গভীর নলক‚প বেচা-বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের আ: গনি (মাষ্টার) সিকদারের ছেলে মো: হুমায়ুন কবিরের নামে এমপির সুপারিশে সরকারী বরাদ্দের নলক‚পটি নগদ টাকায় প্রতিবেশী বারেক মৃধার ছেলে দুলাল মৃধা কাছে বিক্রি করা হয়েছে। কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের লোকজন ইতোমধ্যে দুলাল খানের বাড়িতে নলক‚পটি স্থাপনও করে ফেলেছেন। নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্লট নম্বরের বিপরীতে বরাদ্দকৃত সরকারি নলক‚পটি অন্য একটি মাত্র পরিবারের ব্যবহারের জন্য স্থাপন করার ঘটনায় জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন ওঠেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়-দায়িত্ব ও কর্মকান্ড নিয়ে

স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভিযোগে জানাযায়, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মুরাদিয়ার সন্তোষদি গ্রামের মো: দুলাল মৃধার বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ শুরু করে ঠিকাদারের লোকজন। দুলাল খানের বাড়িতে টিউবওয়েল বসানোর স্থান নির্ধারণ কালে হুমায়ুন কবির উপস্থিত থেকে নির্ধারিত যায়গায় গভীর নলক‚পটি বসানোর কাজ শুরু করেন। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে নানা কৌতুহলের উদ্রেক হয়। পরে জানাযায়, দুলাল খানের নামে আদৌ কোন বরাদ্দ নেই। সরকারী বরাদ্দপত্রে হুমায়ুনের নাম রয়েছে। হুমায়ুন কবির নিজ নামে বরাদ্দের টিউবওয়েলটি প্রতিবেশী দুলালের কাছে বিক্রি করেছে এবং সেকারনেই দুলালের বাড়িতে নলক‚পটি বসানো হয়েছে। এদিকে হুমায়ুন কবিরের বাড়ীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের একটি সরকারী টিউবওয়েল সচল থাকার পড়েও কিভাবে তার নামে দ্বিতীয় দফায় টিউবওয়েল বরাদ্দ দেয়া হলো? আর বরাদ্দ দেয়ার পরে সেটি হুমায়ুনের বাড়িতে না বসিয়ে প্রায় পৌণে এক কি.মি দুরত্বের দুলাল খানের বসানোর প্রশ্নে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ওসি প্রদীপের কীর্তি: প্রতিবাদ করায় কিশোরীকে থানায় তুলে নিয়ে যৌন হয়রানি

এ বিষয়ে দুলাল মৃধা বলেন, আমি কিছুই জানিনা, বড়ভাই ঢাকায় থাকেন, সেখানে (ঢাকায়) বসে হুমায়ুনের সাথে টিউবওয়েল দেয়ার চুক্তি হয়েছে। তবে কত টাকা লেনদেন হয়েছে তা তিনি বলতে পারেন না। তবে টাকা ছাড়া টিউবওয়েল আসেনি সে ব্যপারে তিনি নিশ্চিৎ করেছেন।

হুমায়ুন কবির ঘটনার বিষয়ে বলেন, নিজ নামে বরাদ্দের টিউবওয়েলটি তার ভাইয়ের বাড়িতে বসিয়েছেন। বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশীর দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: সোহেল রানা বলেন, একজনের নামে বরাদ্দের টিউবওয়েল অন্য যায়গায় বসানোর সুযোগ নেই। এমনটি হয়ে থাকলে ঠিকাদারকে বিল দেয়া হবে না। তাবে ব্যক্তিগত খরচে যে কেউ নলক‚প বসাতে পারে, এতে কোন সমস্যা নেই। ওখানে সেই রকম কোন কিছু হয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।