Bangladesh Dhaka

বিস্ফোরণে হতাহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় আশপাশের মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুম্মার নামাজ শেষে মুনাজাতে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। শতশত মুসল্লি এই জামাতগুলোতে অংশ নেন।

সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় তল্লা বড় মসজিদে। সেখানে নামাজে ইমামতি এবং দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুফতি ওমর ফারুক। হতাহতদের পাশাপাশি তাদের স্বজনরা যাতে এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন তার জন্যেও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। এ সময় মুসল্লিদের অনেকের চোখে পানি ও চোখে মুখে শোকের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। নামাজ শেষে হতাহতদের পরিবারকে সহায়তা বাবদ মুসল্লিরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নগদ টাকাও প্রদান করেন।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকার মসজিদেও দোয়া এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে ভয় এবং আতংকে ভাদ্র মাসের তীব্র গরমেও অধিকাংশ মসজিদেই এখন এসি চালানো বন্ধ রাখা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ছয়টি এসির একটিও বিস্ফোরিত হয়নি

তবে দুর্ঘটনা কবলিত বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গত আটদিন ধরে নামাজ বন্ধ থাকায় ওই এলাকার মুসল্লিরা অন্য এলাকার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে জুম্মার নামাজে আদায় করেন। বাসা থেকে মসজিদের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এতে বিপাকে পড়তে হয় অনেককেই।

এই দুর্ঘটনার জন্য বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে দ্রুত বাইতুস সালাত জামে মসজিদটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্নসহ নামাজের উপযোগী করে মুসল্লিদের জন্য খুলে দিতে দাবি জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।

এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে গত আটদিন ধরে তল্লা এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘর থেকে বাইরে বের হতে দেখা যাচ্ছে না। যার কারণে রাস্তাঘাট মহল্লাগুলো অনেকটাই জনশূন্য হয়ে গেছে। তবে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় অলিতে গলিতে নিহতদের স্মরণে শোক ব্যানার টানিয়ে শোক পালন করছেন এলাকাবাসী।