Bangladesh আইন-আদালত

‘বালিশ কাণ্ড’ : শাহাদাতের জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল

‘বালিশ কাণ্ড’ হিসেবে বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় ঠিকাদার শাহাদাত হোসেনের জামিন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার এ রুল জারি করেন। পাবনার একটি আদালত থেকে গত ২৭ আগস্ট দেওয়া জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের করা আবেদনে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

রবিবার শুনানিতে আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। শাহাদাতের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও মাহবুব শফিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবীন রাব্বানী দীপা।

পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে আবাসন প্রকল্পে অস্বাভাবিক দামে বালিশসহ আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী কেনায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে গতবছর ১২ ডিসেম্বর পাবনায় একাধিক মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরমধ্যে একটি মামলায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাজিন কনস্ট্রাকশনের স্বত্তাধিকারী শাহাদাত হোসেনকে আসামি করা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিনসিটি প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে উঠানোর খরচ দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হবার পর বিষয়টি তদন্ত করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

এই তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশপাশি দুদক মামলা করেছে।

গতবছর ১৬ মে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা ৮টি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য একটি বৈদ্যুতিক চুলার দাম ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ টাকা, একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ৭৩০ টাকা। একটি বৈদ্যুতিক কেটলির দাম ৫ হাজার ৩১৩ টাকা যা তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা।