Bangladesh অপরাধ

বড় অফিসার পরিচয়ে ফাঁদ পেতে ধর্ষণ করতো মনির

রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে ‘সিরিয়াল ধর্ষণে’র অভিযোগে গ্রেপ্তার সৈয়দ মনির হোসাইন ওরফে মশিউর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৭ নারীকে অনলাইনে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ধর্ষণের আগে এসব নারীর সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া পরিচয় দিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন ৩৪ বছর বয়সী মনির। আর সে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে নানাভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ছবি, ভিডিও সংগ্রহ করতেন। পরে সে সব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করতেন মনির।

আরও পড়ুনঃ ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬: সালাউদ্দিন-রেজাউলের হাতে ধানের শীষ

র‍্যাব জানায়, এতেও শেষ হতো না মনিরের যৌন নিপীড়ন-অধ্যায়। ধর্ষণের সময় সে চিত্র গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়ার হুমকি দিয়ে নারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করতেন মনির। নানা হুমকি আর হয়রানির মুখে ওই নারীরা মনিরকে বিভিন্ন অংকের টাকা দিতে বাধ্য হতেন।

এভাবেই এক নারীকে ধর্ষণের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেন মনির। অন্যান্য বারের মতো এবারও বড় অফিসার পরিচয় দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে ইমোতে সম্পর্ক গড়ে তুলেন পেশায় স্যানিটারি মেকানিক মনির। এক পর্যায়ে চেষ্টা করেন সে নারীকেও ধর্ষণে বাধ্য করতে। মনিরের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার ওই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতে বিশেষ অভিযানে নামে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‍্যাব-৪) এর একটি দল। রাত ৩টার দিকে মিরপুর দারুস সালাম এলাকায় বাংলা কলেজের সামনে থেকে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গত ৮ মাস ধরে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের ফুসলিয়ে আপত্তিকর ছবি সংগ্রহ করতেন মনির। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মনির স্বীকার করেন, দেশের বিভিন্ন জেলার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন তিনি। এক পর্যায়ে তাদের একান্ত ও আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন। পরে আপত্তিকর ছবি ডিলিট করার জন্য টাকা দাবি করার কথাও স্বীকার করেন মনির। পেশায় স্যানিটারি মেকানিক হলেও নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে নিজেকে বড় অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন মনির।

র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক মো. মোজাম্মেল হক সময় সংবাদকে বলেন, ‘ইমো, হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে নিজেকে বড় অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতো মনির। তারপর কিছু ছবি আদান-প্রদান করতেন। এভাবে সম্পর্ক তৈরি করে এক পর্যায়ে সরাসরি দেখা করতেন।’

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়ার পর ব্লাকমেইল করতেন মনির। ছবি ফেসবুকে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে রেপ করতেন। রেপ করার সময় গোপনে ভিডিও করতো। এভাবেই ব্ল্যাকমেইল করতো। তখন হুমকি দিতো এবার যে ছবি তুলেছি; যদি টাকা পয়সা না দাও, তবে তোমার এ ছবি ভাইরাল করে দেয়া হবে।’

গ্রেপ্তারের পর রাতেই মনিরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তুরাগ থানায় হস্তান্তর করে র‍্যাব। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী মনিরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে বলে জানায় র‍্যাব।

মনিরের বিরুদ্ধে বাকি অভিযোগগুলোও তদন্ত করার কথা জানিয়েছে র‍্যাব।