Bangladesh

শিক্ষক পেটানো সেই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

মাদরাসা শিক্ষক এবং নারী-শিশুকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করার ঘটনায় অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম।

রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ অধি শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ ডা. সাবরিনার আইনজীবীদের সব নথি দেয়ার নির্দেশ

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মামলার বাদী আহত মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আমি ন্যায় বিচার পেতে যাচ্ছি। আশা করি, সে চূড়ান্ত বরখাস্তও হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি মাদরাসা শিক্ষক, আমার কোনো বক্তব্য না শুনেই চেয়ারম্যান আমার মেয়েসহ অন্যান্যদের সামনেই আমাকে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে পুরো শরীর রক্তাক্ত করেছিল। ঘটনার পর এলাকার কিছু লোক এবং সাংবাদিক ছাড়া কেউ আমার পাশে ছিল না। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পর মামলা রেকর্ডে সহায়তা এবং মামলার চার্জশিট দেয়ার জন্য কুমিল্লার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) এবং থানার ওসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের বেতরা গ্রামের গৃহবধূ আমেনা আক্তারের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল সকালে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা আজিজুর রহমানকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম তার বাড়িতে ডেকে নেন। পরে বিচারের নামে ওই শিক্ষককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন চেয়ারম্যান।

ঘটনার একদিন পর স্থানীয়রা তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নির্দেশে এক সপ্তাহ পর গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন আহত ওই শিক্ষক। অপর ঘটনায় একই ইউনিয়নের উখাড়ী গ্রামের ওয়ালি উল্লাহর স্ত্রী কাজল বেগম ও তার শিশুপুত্র শরীফকে একটি মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩ এপ্রিল একই চেয়ারম্যান পিটিয়ে আহত করেন।

এ ঘটনায় আহত কাজল বেগম বাদী হয়ে গত ১৯ এপ্রিল চেয়ারম্যানসহ তার ভাতিজা শামীমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ দুটি মামলার তদন্ত শেষে থানা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করার পর আদালতে গৃহীত হয়। গত ১২ আগস্ট দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিব হাসান স্বাক্ষরিত একপত্রে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন মোতাবেক চার্জশিটভুক্ত ওই চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করার প্রস্তাবনা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে ‘দুটি মামলায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ধারা ৩৪(১) অনুযায়ী ওই চেয়ারম্যানকে স্বীয়পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে’ বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।