Bangladesh Sylhet

আহাজারি থামছে না সাক্ষরের মা-বাবার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা ক্লু জানা যায়নি

সাক্ষরের মা স্কুল শিক্ষিকা মিনা রানী দেবের কান্না কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না। ছেলে সাক্ষরের টেবিলের বই-পত্র গোছানো ও ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে প্রতিদিন কান্নায় ভিজে যায় তার শাড়ির আঁচল। আহাজারি-আর্তনাদ তার আদরের ছেলেকে হারিয়ে। কারো সান্ত্বনাই মানছেন না তিনি। আর সাক্ষরের বাবা শিক্ষক কল্যাণ দেব ছেলের বিছানা-বালিশ আগলে ধরে তিনিও অঝোর ধারায় কাঁদছেন।

সারা বাড়ি যেন কান্নার মাতম বইছে এখনো। মেধাবী শিক্ষার্থী সাক্ষর দেব শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা মা দু‘জনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। শ্রীমঙ্গল শহরতলির ইছবপুর গ্রামেই তাদের বাড়ি। দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে সাক্ষর দেব সবার বড়।

পরিবার ও স্বজনরা জানান, ঘটনারদিন (২৯ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে একটি ফোন আসলে সে তার মাকে আসছি বলে বাবার মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে যায়। এরপর তার আর খোঁজ মেলেনি। পরদিন (৩০ আগস্ট) ভোরে লাখাইছড়া চা-বাগানের একটি নির্জন স্থানে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে কল্যাণ দেব পরদিন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় অজ্ঞাতনামা পরিচয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ হত্যা মামলার ১৭ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনো কোন ক্লু জানা যায়নি।


সাক্ষরের বাবা কল্যাণ দেব জানান, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে তার ছেলে আত্মহত্যা করবে। আর আত্মহত্যা করতে ১২ কিলোমিটার যাওয়ার দরকার ছিলো না।

তিনি জানান, কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। তিনি তার ছেলের কথিত প্রেমিকাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে বলে দাবি করছেন।

এদিকে মিনা রানী দেব জানান, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করলে এর রহস্য বেরিয়ে আসবে।

সাক্ষরের দাদীমা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা স্নেহলতা দেব জানান, ঘটনার পর থেকে কে বা কারা মোবাইলে টাকা চেয়ে ফোন দিচ্ছে। এতে তারা আরো ভীত হয়ে পড়ছেন।

একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার চিত্ত রঞ্জন দেবসহ এলাকার সবাই মেধাবী এ শিক্ষাথীর এমন মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন।

তবে যাকে নিয়ে এতো গুঞ্জন উঠছে- সেই মেয়েটির বাবা তার মেয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া সাক্ষরের বান্ধবী মেয়েটি জানিয়েছে, সাক্ষরের সাথে পরিচয় ছিলো। মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হতো। তবে তার সাথে কোন সম্পর্ক ছিলো না। সে জানায়, ঘটনার দিনও তার সাথে ফোনে কথা হয়।

অপরদিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ এ মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।