Asia আন্তর্জাতিক

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারকে জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

মিয়ানমারের রাখাইন ও চিন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের অব্যাহতভাবে লক্ষ্যবস্তু করে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ এবং অপরাধ সংঘটিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। এ নিয়ে দেশটিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন মিশেল ব্যাচেলেট। গত ৩ বছর আগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রাম কান কিয়ায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে পুরো গ্রাম বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত বছর সরকারি মানচিত্র থেকে মিয়ানমার এই গ্রামের নামটিও মুছে ফেলেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এসব ঘটনার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছেন ব্যাচেলেট।

আরও পড়ুনঃ আল-আকসা মসজিদ আবারো বন্ধ ঘোষণা

এর আগে, ২০১৭ সালে রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে অভিযানের নামে আগুন লাগিয়ে দেয় মিয়ানমারের সেনারা। এরপর নির্বিচারে সেখানে গণহত্যা চালায় তারা। ওই সময় রাখাইন থেকে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাস দমনের নামে ওই অভিযান চালালেও একে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। বর্তমানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগে শুনানি চলছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে।

জেনেভায় মানবাধিকার কমিশনের ৪৫তম অধিবেশনের শুরুতে ব্যাচেলেট বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। রাখাইন, চিন, ম্রো, ডেলিগনেট এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের লোকেরা রাখাইন এবং চিন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘাতের ফলে ক্রমবর্ধমানভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ব্যাচেলেট বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো যেখানে অবস্থিত ছিলো সেগুলোকে সরকারি মানচিত্র থেকে মুছে দিয়েছে দেশটির সরকার। বর্তমানে সেগুলোকে পুনঃগঠন করছে দেশটির প্রশাসন। ওই জায়গাগুলো এখন কিভাবে ব্যবহার করা যায় সেটি নিয়ে সম্ভাব্য পরিকল্পনা করছে তারা।

তিনি বলেন, এগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং আগের অবস্থা ফিরিয়ে দেয়া উচিত।

স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ছবিতে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তর রাখাইনের অঞ্চলগুলোকে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে এখন সরকারি এবং সেনাবাহিনীদের জন্য ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

ব্যাচেলেট বলেন, এসব অভিযোগ স্বাধীন এবং মাঠ পর্যায়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। মিশেল ব্যাচেলেটের অভিযোগের প্রসঙ্গে জানতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফোনকলে সাড়া দেয়নি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র।

মিশেল ব্যাচেলেট জানান, আগামী নভেম্বরে মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনে বেশিরভাগ রোহিঙ্গাই ভোট দিতে পারবেন না। একে হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে বিরত রাখা হবে, যদিও আগে তাদের প্রার্থী হওয়া এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বীকৃতি দেওয়ার পরও তা কার্যকরভাবে কেড়ে নেয়া হয়।

সূত্র- আল জাজিরা