Bangladesh Latest News আইন-আদালত

অবশেষে ডিবি অফিস থেকে ছাড়া পেল নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে আটকের পর অবশেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার রাত ১ টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন গনমাধ্যমকে নুরের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গতকাল সোমবার ২১ তারিখ সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন নুর। সমাবেশ শেষে নুরসহ তাঁর ছয় সহযোগীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর রাত ১০ টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ডিবি প্রহরায় নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফের তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। অনেক নাটকীয়তার পর আজ রাত পৌনে ১টার দিকে নুরকে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় নুরের সঙ্গে আটক তার ছয় সহযোগীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ছয়জনের কেউই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর দায়ের করা মামলার আসামি নন।

আরও পড়ুন

ধর্ষক ভিপি নুর নয়, ধর্ষণ করেন মামুন: ঢাবি ছাত্রী

গত রোববার রাতে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে রাজধানীর লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী নুরের নামে । এ মামলাকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে আজ সন্ধ্যায় মশাল মিছিল ও সমাবেশ করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

গতকাল সোমবার বিকেলেই নুরের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার গ্রহণ করে আগামী ৭ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য আসামীরা হলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের হাসান আলম মামুন, নাজমুল হাসান সোহাগ, মো. নুরুল হক, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাজমুল হুদা ও মো আব্দুল্লাহ হিল বাকি।

এজাহারে মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, আসামি হাসান আলম মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র।

সে আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সুবাধে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই মামুনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয় ও পরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। এর ধারাবাহিকতায় আসামির সঙ্গে আমার বিভিন্ন সময়ে ম্যাসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথোপকথন হয়।

সেখানে আসামি আমাকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসামি এ বছরের ৩ জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে তার বাসা নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ এলাকায় যেতে বলে এবং আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসায় ধর্ষণ করে।

640.jpg

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ঘটনার পর গত ৪ জানুয়ারি আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। গত ১২ জানুয়ারি ২০২০ আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মামুনের বন্ধু সোহাগের মাধ্যমে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমি ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে মামুন ও সোহাগ বাধা দেয়। এর আগে মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে রাজি হয়, কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ার পর সে নানা টালবাহানা শুরু করে।

আর কোন উপায় না দেখে গত ২০ জুন ২০২০ বিষয়টি ভিপি নুরকে মৌখিকভাবে জানাই উল্লেখ করে এজাহারে আরো বলা হয়, নুর বলেন, মামুন আমার সহযোদ্ধা। তার সঙ্গে বসে একটা সুব্যবস্থা করে দেব।এরপর ২৪ জুন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে তিনি আমার সঙ্গে নীলক্ষেতে দেখা করতে আসেন।

কিন্তু মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। আমি যদি বাড়াবাড়ি করি তাহলে তার ভক্তদের দিয়ে ফেসবুকে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবে এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবে বলে হুমকি দেয়।

তাদের ছাত্র অধিকার পরিষদের ১.১ মিলিয়ন সদস্যের গ্রুপে এ প্রচারণার হুমকি দেওয়া হয়। নুর আরো বলেন, তার একটি লাইভে আমার সব সম্মান চলে যাবে। ইতোমধ্যে মামলার চার নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম আমার নামে কুৎসা রটিয়েছে এবং ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে লাগিয়ে দেয় কুৎসা রটাতে। তারা ম্যাসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাসহ সম্মিলিতভাবে চক্রান্ত করে।

এজাহরে বাদী আরো বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা পর্যায়ের কয়েকজন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে চাইলেও আসামিরা তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলে অ্যাখ্যা দেয়। এরপর আমি শারীরিক-মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বলার কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।