খবর

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির ৭টি অভিযোগ

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির ৭টি অভিযোগ

আমিরুল ইসলাম কবির ঃ রংপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির ৭টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে প্রকাশ,অনুমোদিত ডিপিপি উপেক্ষা করে পছন্দের ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে কাজ প্রদানের উদ্দেশ্যে এলইডি বাল্বের স্পেসিফিকেশন ও কান্ট্রি অব অরিজিন পরিবর্তনকরণ, একটি প্রকল্প পরিচালক শুধুমাত্র একটি প্রকল্পের পরিচালক থাকবেন মর্মে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এসব সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একই সঙ্গে ৫টি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পেও উৎকোচের বিনিময়ে নিজ ইচ্ছে মত সাইট পরিবর্তন করেন। বিনা টেন্ডারে পিপিআর অনুসরণ না করে দুটি এম্বুলেন্স ক্রয় করেন। দ্বিতীয় বিবাহ করে প্রায় ৯ বছর সংসার দুই ছেলে সন্তান থাকার পরও আয়কর নথিতে ভরন-পোষণ সহ যাবতীয় ব্যয় প্রদর্শন না করা।

ইতিপূর্বে দুদকে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ৫কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ থাকলেও অদ্যবধি বিচারের সম্মুখীন হয় নাই। সাবেক মেয়র মৃত শরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর স্বাক্ষর জাল করে দপ্তরের সকল টেন্ডার নথি পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয়,সকল কাগজ, নিজের ইচ্ছে মতো স্বাক্ষর জাল করে তৈরি করেন।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে,রংপুর সিটি কর্পোরেশন এর ৩৩টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন রাস্তায় সড়ক বাতি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পটি ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এলইডি বাতি সহ আনুষাঙ্গিক মালামাল এলজিইডি এর রেট ও স্পেসিফিকেশন অনুসরণ করে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক ভেটিং করে বাল্বটি ৩৬ ওয়াট ধরে প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। কিন্তু দরপত্র আহ্বানের পূর্বে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও স্ব-ঘোষিত প্রকল্প পরিচালক এমদাদ হোসেন ৫কোটি টাকার বিনিময়ে তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ প্রদানের লক্ষ্যে এলজিইডির স্পেসিফিশেন সম্পূর্ন পরিবর্তন করে নিজের ইচ্ছে মতো স্পেসিফিকেশন,কান্ট্রি অব অরিজিন,বাল্বের ক্ষমতা পরিবর্তন করে প্রাক্কলন প্রস্তুত করে সেই মোতাবেক দরপত্র আহ্বান করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন।

দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ আছে, অনুমোদন ছাড়াই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন ৫টি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সে নিজেই প্রকল্প গুলো (১)রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ২১০ কোটি টাকা। (২)রংপুর সিটির ৩৩টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তায় সড়ক বাতি স্থাপন ৪৯ কোটি টাকা। (৩)রিহ্যাবিলাইটেশন এন্ড ইমপ্রুভমেন্ট অফ ডিফারেন্ট রোড ইন রংপুর সিটি ২৫ কোটি টাকা। (৪)সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় ১ শত ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। (৫)সিটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও ড্রেন কাম ফুটপাত নির্মান ৬০ কোটি টাকা।
তৃতীয় অভিযোগে জানা য়ায়, ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটি ৩১টি প্যাকেজে বিভক্ত করে অনুমোদন হয়।একনেক কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পটি সংশোধন ব্যতীত কোন পরিবর্তন করে দরপত্র আহ্বানের নিয়ম নেই,কিন্তু স্ব-ঘোষিত প্রকল্প পরিচালক এমদাদ ২ কোটি টাকা উৎকোচ নিয়ে প্যাকেজ স্কীমের নাম এবং অবস্থান পরিবর্তন করে দরপত্র আহ্বান করেন ও পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন। চতুর্থ অভিযোগে জানা যায় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন নিজ ক্ষমতা প্রয়োগে বিনা টেন্ডারে পিপিআর অনুসরণ না করে ২ টি এম্বুলেন্স ক্রয় করেন,যার আর্থিক লাভ তিনি নিজে ভোগ করেন। পঞ্চম অভিযোগে আমরা জানা যায়, এমদাদ হোসেন রংপুর পৌর সভায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর হতেই বিভিন্ন প্রকল্পের নিয়োজিত নারী কর্মচারীকে চাকরির প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন এক পর্যায়ে কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বাও হন। কিছু অসাধু প্রিয় ব্যক্তির মাধ্যমে নারীদের গর্ভপাতও করা হয়। বর্তমান ২য় স্ত্রী রংপুর পৌরসভার ইউপিপিআর প্রজেক্টে তার অধীনস্থ কর্মচারী ছিলেন। ষষ্ঠ অভিযোগে জানা যায়,তদন্ত কর্মকর্তা দুদক রংপুর সমস্ত অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও নথিটি ধীরগতিতে চলছে শোনা যাচ্ছে। বিপুল অর্থের বিনিময়ে দুদকে যোগাযোগ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে বদলীর চেষ্টা করছেন। দুদককে ১ কোটি টাকা উৎকোচ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন স্থানে গল্পগুজবও করেন তিনি।

640.jpg

আরও পড়ুন ঃরসিকের উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে ছয় মাসের মধ্যে

সপ্তম অভিযোগে জানা যায়, প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন নিজের দোষ ঢাকতে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিজের দপ্তরে সাবধানতার সাথে পরিবর্তন করে থাকেন। মৃত মেয়র শরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু’র মৃত্যুর পরপরই ৪৭টি গ্রুপের টেন্ডার নথি ও ১৯টি গ্রুপের কোটেশন নথি সহ প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার নথি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মেয়রের স্বাক্ষর জাল করে পুনরায় নথি তৈরী করেন।

এবিষয়ে তথ্য প্রমানাদি সহ অভিযোগ দেয়া হয়েছে মূখ্য সচিব প্রধান মন্ত্রী কার্যালয়, সিনিয়র সচিব,স্থানীয় সরকার বিভাগ,ভৌত অবকাঠামো বিভাগ,পরিকল্পনা মন্রনালয়, মহা পুলিশ পরিদর্শক,বিভাগীয় কমিশনার,দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধানমম্রীর একান্ত সচিব,ডিজি এফ আই,এন,এস,আই,জেলা প্রশাসক বরাবরে।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী,সচেতন অভিজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকমহল দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।