অপরাধ জাতীয়

ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পদ: হদিস মিলছে না বৈধ উৎসের

হদিস মিলছে না স্বাস্থ্যে ডিজির ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পদের। তথ্য গোপন করেও আয়কর রিটার্নে প্রায় দু কোটি টাকার সম্পদের কোন বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি মালেক ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগম। আয়করে দেখানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের নামেই বেশি সম্পদ গড়েছেন মালেক। স্বাস্থ্যখাতে অর্থের নয়ছয়ের সুযোগ সৃষ্টিতে মন্ত্রণালয়কে দুষছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

২০১৭-১৮ সালে মালেক ও তার স্ত্রীর সম্পদ পাওয়া যায় ২ কোটি ৩০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। পারিবারিক ব্যায় ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। অথচ তিনি ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগমের আয় দেখান ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার কোন বৈধ উৎসই তিনি দেখাতে পারেন নি।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের কাছে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র বিক্রি করতে চায় তুরস্ক

এছাড়া তার অঢেল সম্পদের মালিকানায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এর মধ্যে হাতিরপুল এলাকায় নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের কাজ স্থগিত আছে আদালতের হস্তক্ষেপে। মেয়ের নামে রয়েছে ১৫ কাঠার ওপর ডেইরি ফার্ম। এছাড়া আরেক স্ত্রীর সম্পদের বিবরণীই দাখিল করেননি তিনি। সম্পদের বেশিরভাগই পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করেন মালেক।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ডাক্তারদের বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যে আদায় করা বিপুল পরিমাণ অর্থের কোন হদিস পাওয়া যায় না। শুধু মালেক নয়, স্বাস্থ্যের দুর্নীতিতে এখন পর্যন্ত যেসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনুসন্ধানে দেখা যায় প্রত্যেকেই আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন।

640.jpg

ঢাবি আইন বিভাগের অধ্যাপক কার্জন বলেন, ‘এতে প্রমাণিত হয় যে সরকারের হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে যে ব্যয় হয় তাতে কিছু সাধারণ মানুষ সেবা পান তবে তার চেয়ে সিন্ডিকেট করে যেভাবে আয়ত্ব করে রাখে তাতে এটাকে ব্যবসা বলাই ভালো।’

স্বাস্থ্যের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোটিপতি বনে যাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণহীনতাকে দুষছেন স্বাচিপ সভাপতি।