Bangladesh Politics

বীরাঙ্গনা হিসেবে গেজেট-ভুক্তের আবেদনকারী সেই আ.লীগ নেত্রী বহিষ্কার

বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট-ভুক্ত হওয়ার জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) আবেদনকারী জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আছমা বিবিকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, বয়স, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন প্রত্যায়ন-পত্র জালিয়াতির আশ্রয় নেন তিনি।

নীলা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিজান গ্রেফতার

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে জয়পুরহাট প্রেসক্লাবে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেবেকা সুলতানা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবা বেগম নায়লা উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের এ বিষয়টি অবগত করেন।

জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আছমা বিবির জাতীয় পরিচয়পত্রের হিসেবে ১৯৭১ সালে ৮ বছর ৩ মাস বয়স থাকলেও, তিনি নিজেকে সেসময় ২১ বছরের একজন যুবতী ছিলেন দাবি করেন। তিনি বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি চেয়ে ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন।

তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সদর উপজেলায় কর্মরত ৫ সদস্যের সরকারি নারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহনাজ সিগমা কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই না করে অফিসের একজন পরিদর্শকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ২৪ জুন প্রতিবেদন জমা দেন। যেখানে তিনি আছমা বিবিকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভূক্ত করার জন্য সুপারিশ করেন।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মুক্তিযুদ্ধের সাথে এসব জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। একপর্যায়ে জয়পুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজম আলী এসব অভিযোগ তদন্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

640.jpg

অভিযোগকারী আওয়ামী লীগ নেতা আজম আলী জানান, আবেদন পত্রের সাথে আছমা বিবি যে বয়স, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করেছেন সেগুলো প্রাথমিক তদন্তে জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মাহফুজা মন্ডল রিনা বলেন, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রকৃত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় প্রতিপন্ন করার তার এমন ঘৃণ্য অপচেষ্টা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তাই আছমা বিবির সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ সহ সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত আছমা বিবি জানান, ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ২১ বছর। তিনি পাক সেনাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। তিনি প্রকৃত পক্ষেই একজন বীরাঙ্গনা। তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই আওয়ামী লীগের কেউ কেউ উঠে পড়ে লেগেছেন।