সোশ্যাল মিডিয়া

গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় ফেসবুক তোলপাড়

নোয়াখালীতে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে বিবস্ত্র করে মুখমণ্ডলে লাথি মারাসহ নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে সারাদেশ। এই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে দুপুরের পর থেকেই। এরপর থেকে সামাজিক মাধ্যমসহ নানা স্তরের মানুষ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করেন। বিশিষ্টজনেরা ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই ধরনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন তারা।

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আর কত? কেন? নারীর জন্য এ রাষ্ট্র নয়? নারীর নিরাপত্তা দেখার দায় রাষ্ট্রের নয়? যদি না হয় তাহলে বলে দিন,গণহারে নারী অগ্নিপ্রবেশ করুক। আর যদি রাষ্ট্রটি নারীরও হয় তাহলে তাকে তার অধিকার নিয়ে বাঁচার পথ করে দিন। আর নেওয়া যাচ্ছে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন লিখেছেন, ‘যদি যৌনক্ষুধার জন্যই শুধু ধর্ষণ হয় তাহলে এই ভয়াবহ নির্যাতন করতে হয় কেন? ঘুরুক এই ভিডিও। তাকাইয়া দ্যাখ। শোন। তারপরেও যদি বুঝিস। যদি বুঝতে চাস।’

সাংবাদিক তুষার আবদুল্লাহ লিখেছেন, করোনায় তারুণ্যের স্বেচ্ছাসেবক বন্ধুরা আসুন এবার নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। সংঘবদ্ধ হই। নিশ্চয়ই করোনা মোকাবিলায় মতো প্রকৃত রাজনীতিবীদ ও সরকারের দফতর আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। নির্যাতিত নারী এবং তার পরিবারকে আইনী সহায়তা দিতেও আমরা পাশে দাঁড়াতে চাই।

লেখিকা পাপড়ি রহমান লিখেছেন, বাংলাদেশ ক্রমশ বিকৃত মানুষের দেশ হয়ে যাচ্ছে। আর কত দেখতে হবে নারীর ওপর অত্যাচারের দৃশ্য।

উন্নয়নকর্মী গীতা অধিকারী লিখেছেন, মানুষ পৈশাচিকতায় যে কোন হিংস্র প্রাণীকে অনেক আগেই হার মানিয়েছে। কেউ কি ছিলো না মেয়েটার জন্য। এ কয়টা দানবের কাছে হার মেনে গেলো সবকিছু। বহুদিনের চলে আসা বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের আরেকটা বর্বর ঘটনার সাক্ষী করে দিলো। নোয়াখালী’র ভিডিওটি না চাইতেই সামনে চলে এসেছে। আমি মা এবং আমিও একজন নারী। রাগে ক্ষোভে ঘৃণায় নিজেকে মানুষ ভাবতেই লজ্জা হচ্ছে। এ অমানুষদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। না কি নতুন কোন ঘটনার আড়ালে এটিও ফাইল চাপা পড়ে যাবে!

640.jpg

এদিকে, বখাটেদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খালের পাশে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও আবদুর রহিমসহ ৫ বখাটে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার (৪ অক্টোবর) আবদুর রহিম (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশের ৫টি ইউনিট বখাটেদের ধরতে অভিযানে নেমেছে।