Bangladesh

তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার পর হাত-পা বেঁধে হত্যা

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত পরিচয় তরুণীর পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। তাকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে কথিত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ। প্রধান অভিযুক্ত ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করত এবং পরে হত্যা করে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানায়।

পুলিশ জানায়, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আনিছুল রহমান (২৮), অটোচালক রাজ মিয়া (২৫) ও আশিকুজ্জামানকে (৪০) বুধবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বুধবার বিকেলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারাক্তিমুলক জবানবন্দী নেয়ার জন্য দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করা হয়।

রোহিঙ্গাদের কারণে দেশে সামাজিক-পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে: শেখ হাসিনা

এ ঘটনায় মঙ্গলবার গ্রাম পুলিশ আব্রাহাম মিনজী পার্বতীপুর মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে পার্বতীপুর মধ্যপাড়া-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কর পাশের শালবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে ওই তরুণী রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স ইতিহাস বিভাগর শেষ বর্ষের ছাত্রী। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মিশনপাড়ার দিনেশ রাউৎ এর মেয়ে।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রুখিয়া। বান্ধবীদর সঙ্গে একরাত থেকে পরের দিন তার ফিরে আসার কথা ছিল। শেষবার ফোন মা সুমতিকে বলে যায় ‘মা রংপুর যাছি। চিন্তা করিস না। সকালে আবার ফিরে আসব।’ এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওই দিন সে আর বাড়িতে ফিরে না আসল উদ্বিগ্ন হয় পড়েন পরিবারের লোকজন। অবশেষে পর দিন মঙ্গলবার ভোরে পার্বতীপুর উপজলার হরিরামপুর ইউনিয়নর পাঁচপুকুরিয়ার শালবাগান থেকে অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি। উদ্ধারের সময় নিজের ওড়না দিয়ে তার হাত-পা গলায় সঙ্গে বাঁধা ছিল। পরনে ছিল সালায়ার কামিজ। মুখের দাঁতগুলা ভেঙে দেয় দুর্বত্তরা। রক্তাক্ত ও ক্ষত-বিক্ষত ছিল তার মুখ। দুর্বৃত্তরা নির্দয়ভাব হত্যার পর অটোচালিত গাড়িতে করে সেখান লাশটি ফেলে যায়। পরে মধ্যপাড়া পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালর মর্গে পাঠায়।

এদিকে, লাশের পরিচয় জানতে ওই দিন সন্ধ্যায় দিনাজপুর পুলিশ ব্যুরা অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি তদন্ত দল মৃতের হাতের আঙ্গুলের ছাপ নেয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে চেহারার মিলে যাওয়ায় তারা পরিচয় নিশ্চিত হন। রুখিয়ার বাবা দিনেশ রাউৎ বলেন, একই এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে আনিছুল রহমান প্রায় সময় রুখিয়াকে উত্ত্যক্ত করত। হোস্টেল থেকে বাড়িতে আসলে সে নানাভাবে বিরক্ত করত আমার মেয়েকে। এক পর্যায় সে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।

640.jpg

গত সোমবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে রুখিয়া তার ডায়েরিতে লিখে গেছে ‘আত্মহত্যা করতে গিয়ে কোনোভাবে বেঁচে গেলাম। আজ ৫/১০/২০২০ আমাকে আনিছুল রহমান দূরে কোথাও ডাকছে। যেখানে ও নিজের হাতে আমাকে হত্যা করবে। এ কথা ও নিজ বলেছে ও আমাকে নিজের হাতে হত্যা করবে। আমার সব কিছুর জন্য আনিছুল দায়ী।’ বাড়ি থেকে যাওয়ার কোনো এক সময় রুখিয়া ডায়রিতে এসব লিখে রাখে। পড়ার টবিল থেকে রুখিয়ার ডায়রি উদ্ধার করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বদরগঞ্জ উপজলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শ্যামল টুডু বলেন, ‘অতি দ্রুত সময়ের মধ্য এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চাই। তা না হলে বৃহৎ আদোলন গড়ে তোলা হব।’

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবিন্দ্র সরেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আদিবাসী নারী নির্যাতন, নিপীড়ন ধর্ষণ ও আদিবাসীদের জমি বেদখলের ঘটনা ঘটেছে। এতে জড়িতদের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবি জানাছি।

পার্বতীপুরর মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, নির্দয়ভাব মেয়েটিকে হত্যার পর লাশ ফেলে যায়। এ ঘটনায় সন্দেভাজন আনিছুল হক নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এতে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানতে তদন্ত চলছে। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মডিক্যাল কলজ হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারর কাছ হস্তান্তর করা হয়েছে।

পার্বতীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আলামত হিসেবে বেশকিছু জিনিসপত্র তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।