Dhaka

শিশু আকিব অপহরণ-হত্যায় আসামি রতনের মৃত্যুদণ্ড

নারায়ণগঞ্জে শিশু আকিব হোসেনকে অপহরণের পর হত্যা মামলার রায়ে রতন নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন এ রায় দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রতন কুমিল্লার মেঘনা থানার মির্জানগরের জজ মিয়ার ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ অযৌক্তিক নয়: কাদের

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার ট্রলারচালক জামাল হোসেনের ছেলে আকিব হোসেন বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় আকিবের বাবা জামালের মোবাইলে কল আসে। কল রিসিভ করে তিনি জানতে পারেন আকিবকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে আকিবকে ফেরত দেবে বলা হয়। টাকা না দিলে আকিবকে হত্যা করবে বলেও জানায় অপহরণকারী।

এরইমধ্যে আকিবের পরিবার জানতে পারে অপহরণকারী একই এলাকার প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া রতন। বিষয়টি র‍্যাবকে জানানো হয়। এরপর ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকা থেকে রতনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-১১। তবে গ্রেফতারের আগেই আকিবকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জামাল হোসেন বন্দর থানায় মামলা করেন। গ্রেফতারের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় রতন। ঘটনার তদন্ত শেষে রতনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি রকিব উদ্দিন বলেন, মামলার রায়ে রতনকে অপহরণের একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। একইসঙ্গে মুক্তিপণ দাবির আরেক ধারায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

640.jpg

তিনি বলেন, শিশু আকিবকে হত্যার দায়ে আরেকটি ধারায় রতনকে আরেকবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ আদায় করে বাদীকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রায়ের পর আদালতপাড়ায় উপস্থিত শিশু আকিবের বাবা জামাল হোসেন ও মা রুমা বেগম সন্তোষ প্রকাশ করেন। জামাল হোসেন বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়। আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেশবাসীকে জানিয়ে দেয়া হোক অপরাধ করে কেউ পার পায় না। আমার মতো কোনো বাবার বুক যেন খালি না হয়।