জাতীয়

বিশ্বজুড়ে কলেরা রোধে বাংলাদেশি ডা. ফেরদৌসীর প্রশংসায় বিল গেটস

বিশ্বব্যাপী মহামারি কলেরা রোগের সংক্রমণ এখন অনেকটাই কমে গেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন যে কয়েকজন মানুষ তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌসী কাদরী। এবার তাকে কৃতিত্ব দিয়ে প্রশংসা করলেন বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

সম্প্রতি নিজের ব্লগ ‘গেটস নোটে’ এ নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। সেখানে এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলা মহামারি কলেরাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। দীর্ঘ ২ শ বছর ধরে পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়ানো সেই মহামারি এখন আর নেই। একটা সময় লাখ লাখ মানুষ কলেরায় ভোগে মারা গিয়েছিল। প্রতি বছর এই সংখ্যাটা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। আর আক্রান্ত হয় ৪০ লাখের মতো মানুষ।

দক্ষিণ এশিয়া থেকে আফ্রিকা এবং আমেরিকা অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে নিরাপদ ভ্যাকসিন। যেটি আক্রান্ত রোগীকে খাওয়ানো হয়ে থাকে। আর এই লড়াইয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌসী কাদরী। তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এ কাজে যুক্ত আছেন।

ডা. ফেরদৌসী কাদরী ভ্যাকসিন কার্যক্রমের ফলে ২০১৮ সালে বিশ্বজুড়ে কলেরা সংক্রমণের হার ৬০ শতাংশ কমে আসে এবং ২০১৯ সালে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ৩৬ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানান বিল গেটস।

বিশ্বে কলেরা নিয়ন্ত্রণে যে কয়েকজনের ভূমিকা অনস্বীকার্য, তার মধ্যে অন্যতম ফেরদৌসী কাদরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ইমিউনোলজিস্ট এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ তার পুরো জীবন ব্যয় করেছেন কলেরা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে। ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে পুরো একটি জনগোষ্ঠীকে বাঁচিয়েছেন।

করোনার সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবেলার প্রস্তুতি আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

640.jpg

‘১৯ শতকের শেষ দিকে একাধিক কলেরা ভ্যাকসিন চলে আসে। কিন্তু সেগুলো খুবই দামি ছিল। ধনীরা সহজেই ব্যবহার করতে পারলেও গরীবরা তা পারতো না। এমতাবস্থায় এগিয়ে আসেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ফেরদৌসী কাদরী এবং তার প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। তিনি অত্যন্ত কম মূল্যে এবং সহজলভ্য ‘শানকোল’ নামে একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন।’

সেই গবেষণাটি মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অংশীদারিত্বে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ভ্যাকসিনটি দরিদ্র অঞ্চলে কলেরার বিস্তার রোধে কার্যকর সরঞ্জাম হতে পারে, যা মহামারি থেকে ৫০ শতাংশেরও বেশি সুরক্ষা দেবে, যোগ করেন মাইক্রোসফটের এই সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী।