Bangladesh Barishal

আট মাস ধরে হিজড়াকে ধর্ষণ, আইনজীবী কারাগারে

বরিশালে তৃতীয় লিঙ্গের একজনকে (২৪) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় শামসুল হক (৫৭) নামে এক আইনজীবীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মারুফ আহমেদ অভিযুক্ত আইনজীবীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শামসুল হক বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থান রোডের বাসিন্দা।

মামলার বাদী তৃতীয় লিঙ্গের ওই ব্যক্তির বাড়ি সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচর গ্রামে। বর্তমানে তিনি নগরীর কাউনিয়ায় বসবাস করেন।

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন চিকিৎসকের ৮ জনই অনুপস্থিত

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন ব্যক্তি থানায় হাজির হয়ে জানান, তাদের একজনকে আট মাস ধরে ধর্ষণ করা হচ্ছে। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তি দাবি করেন এবং লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হককে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হক জানান, আইনজীবী শামসুল হক নগরীর কাশিপুর এলাকার কয়েক শতাংশ জমি বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড টানান। ওই সাইনবোর্ডে আইনজীবী শামসুল হকের মুঠোফোন নম্বর দেয়া ছিল। তৃতীয় লিঙ্গের ওই ব্যক্তি আট মাস আগে সাইনবোর্ডে দেয়া মুঠোফোন নম্বরে কল দিলে আইনজীবী শামসুল হক নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থান রোডের বাসায় যেতে বলেন।

এরপর আইনজীবী শামসুল হক তৃতীয় লিঙ্গের ওই ব্যক্তির কাছে জমি কম দামে বিক্রির কথা বলে আট মাসে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। আইনজীবী শামসুল হকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও কৌশলে মুঠোফোনে ধারণ করেন বলে তৃতীয় লিঙ্গের ওই ব্যক্তি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

640.jpg

এসআই ফজলুল হক বলেন, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে আইনজীবী শামসুল হককে গ্রেফতার করা হয়। রোববার দুপুরে তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত আইনজীবী শামসুল হকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসআই ফজলুল হক আরও বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের ওই ব্যক্তিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম বলেন, অ্যাডভোকেট শামসুল হক সমিতির সিনিয়র সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। শুনেছি তার সঙ্গে জমি নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তির বিরোধ রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ থেকেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে কি-না তা তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।