জাতীয়

মেট্রোরেল প্রকল্পে করোনা সামলাতে হাসপাতাল স্থাপন

যেখানে দিনরাত কর্মযজ্ঞ, সেখানেই হাসপাতাল। দেশে প্রথমবারের মত প্রকল্পের অধীনে হাসপাতাল স্থাপন করলো মেট্রোরেল। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও যাতে পুরোদমে কাজ এগিয়ে নেওয়া যায় সে লক্ষ্যে যাবতীয় উদ্যোগ নিয়েছে মেট্রোরেল।

কর্তৃপক্ষ জানায়, আসছে বছরের শুরুর দিকেই যাতে ট্রায়াল রান শুরু করা যায়, সে লক্ষ্যে প্রকল্পে কাজ করা বিদেশিদের বিশেষ ফ্লাইটে করে কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। 

মেট্রোরেলে ৫০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে করোনাকালের গেল ছয় মাসে শেষ হয়েছে ৬ শতাংশের বেশি। কাজ এগিয়ে নিতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে জনশক্তি বাড়াচ্ছে। এরইমধ্যে প্রকল্প এলাকায় কাজে ফিরেছেন ৬০ শতাংশের মত বিদেশি। কিন্তু এ মেগা প্রকল্পের বিপুল জনশক্তির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নিচ্ছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ?

এর উত্তর মিলবে কাস্টিং ইয়ার্ডের পাশে নির্মিত এ ছোট ছোট ফিল্ড হাসপাতালগুলোতে। সদ্য নির্মিত এ হাসপাতালের প্রতিটি বেডে সংযোজন করা হয়েছে আধুনিক সুবিধা। প্রতি রোগীর জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিমিটার ও ইসিজি মেশিন। সংক্রমণরোধে গ্রহণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। দেশি বিদেশি রোগীদের সেবার জন্য প্রস্তুত করতে এ হাসাপাতাল কর্মীদের নিয়মিত তৈরি করা হচ্ছে।

দায়িত্বরত চিকিৎসকরা বলছেন, মাইল্ড থেকে মডারেট কেইসের সব ধরনের করোনা রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে সক্ষম এ হাসপাতাল।

নার্সরা জানান, বড় ধরনের কোন অসুখ থাকলে যে কেউ এখান থেকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে যেতে পারবেন।

সকল জনশক্তিকে যাতে সঙ্গনিরোধের আওতায় আনা যায়, সে লক্ষ্যে নতুন নতুন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নির্মাণ করছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বাস্তবায়নে এসব সেন্টারে স্থাপন করা হয়েছে স্বতন্ত্র ক্যান্টিনসহ অন্যান্য সুবিধা।

640.jpg

মেট্রোরেল ব্যবস্থাপক বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রস্তুতিই নিচ্ছেন তারা।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির লিমিটেডের ব্যবস্থপনা পরিচালক বলেন, অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়ে সেজন্য ফিল্ড হাসপাতাল করা হয়েছে। আর যতদিন পর্যন্ত কোভিড পরিস্থিতি উন্নতি না হবে ততদিন এ হাসপাতালগুলো অব্যাহত থাকবে।

করোনার কারণে জাপানে আটকা পড়া মেট্রোরেলের কনসালটেন্টদের অর্ধেক এরই মধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন। বাকিদেরও বিশেষভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান এ প্রকল্প ব্যবস্থাপক।