Politics

নারী নির্যাতন থেকে বেরোনো যাবে না: হানিফ

সমাজের মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় নেমে এসেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ধর্ষণে জড়িয়ে পড়ছে। কেবল দোষারোপের রাজনীতি করলে নারী নির্যাতন বা অবক্ষয় থেকে বের হওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন হানিফ।

সেখানে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মোমবাতি প্রজ্বালন, আলোর মিছিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হানিফ। শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন (ইউএস) এবং গৌরব ৭১ যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।

হানিফ বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি নারী নির্যাতনে শুধু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নয়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। আজকে স্কুলের শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত বা গির্জার ফাদারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আসছে নারী নির্যাতনের। সমাজে আজ নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবতার চরম অবক্ষয় চলে এসেছে। এই অবস্থা দূর না করে শুধু দোষের রাজনীতি করলে আমরা এই নির্যাতন বা অবক্ষয় থেকে বের হয়ে আসতে পারব না।’

ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সব সময় সরকারদলীয়দের সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একটি জাতীয় পত্রিকার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নারী নির্যাতনের সংখ্যা ৬০০ বা তার উপরে। আমরা যদি ধরে নিই সংখ্যাটা সঠিক, তাহলে আমার একটা প্রশ্ন রয়েছে। এর মধ্যে কতগুলো ঘটনায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী জড়িত? সেটা হয়তো পাঁচটা, ছয়টা খুব বেশি হলে ১০টা। তাহলে বাকি ৬০০ ঘটনায় কারা সম্পৃক্ত?’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নারী নির্যাতনকারী পশুদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক সেটা আমরাও চেয়েছি। দেশবাসী মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছেন। সেটি ক্যাবিনেটে পাস হয়েছে এবং অধ্যাদেশ জারি হয়ে বিচারকার্য শুরু হয়েছে।’

সন্তানদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করার আহ্বান জানিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আপনি তাদের নীতি-নৈতিকতার জ্ঞান দান করুন। প্রত্যেক সন্তানের প্রথম পাঠশালা হলো তার পরিবার। আর শিক্ষক হলেন তার বাবা-মা।’

640.jpg

শেখ রাসেলকে স্মরণ করে হানিফ বলেন, ‘নয় বছর বয়সে শেখ রাসেলকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এটি অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং পৃথিবীর কলঙ্কজনক ইতিহাসের একটি। পৃথিবীর ইতিহাসে ক্ষমতার পালাবদলে রাষ্ট্রনায়কের আত্মাহুতির ঘটনা অনেক আছে, কিন্তু রাষ্ট্রনায়কের পরিবারে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর ইতিহাসে পাওয়া যায় শুধু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট।’

অনুষ্ঠানে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘খুনি জিয়াউর রহমান এবং মোশতাকদের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্নেল ও মেজর বঙ্গবন্ধুসহ শিশু শেখ রাসেলকে হত্যা করে আমাদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছিল। পৃথিবীতে অনেক শিশু হত্যার নজির রয়েছে। কিন্তু আমি অনেক গবেষণা করেও শেখ রাসেল হত্যার মতো হত্যাকাণ্ড খুঁজে পাইনি।’

‘ভোরের পাখি শেখ রাসেল’ শিরোনামে এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পর শিশু-কিশোরদের আলোর মিছিলে অংশ নেন মাহবুবউল আলম হানিফসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ, যুব মহিলা লীগের নাজমা আক্তার, গৌরব ৭১-এর সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহিন প্রমুখ।