Politics

নির্বাচন কমিশন কোনো কথাই শোনে না : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন (ইসি) কেনো কথাই শোনে না। কমিশন গঠনের পর থেকে ইসি সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়িত করছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী আইনের তারা যে প্রস্তাব দিয়েছে- এটা অত্যন্ত অসৎ উদ্দেশ্যেই করা। এর লক্ষ্য একটাই, সরকারি দলকে সর্বময় ক্ষমতায় দিয়ে দেওয়া এবং ইসিকে ঠুটো জগন্নাথে পরিণত করা। উপরন্তু ইসি আইন করে বিভিন্নভাবে যে সরকারের কোনো ম্যান্ডেট নেই তাদের শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

আজ সোমবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ -১ উপনির্বাচনের প্রচারণা চলছে। দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি এটা মিডিয়া কোনো কাভারেজ হচ্ছে না। যার ফলে হচ্ছে কি- এখানে চরম অনিয়ম ঘটছে। এখানে নির্বাচন একটা প্রহসনে পরিণত ও ইসি একটা বংশবদ প্রতিষ্ঠানের পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ করব, দয়া করে একটু কাভার করার ব্যবস্থা নিন। এমনিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়া ধবংস হয়ে গেছে, জনগণের আস্থা উঠে গেছে। এটা বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত করে ফেলতে পারে।

ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সিইসির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র সরকারের যে ইচ্ছা সেটাকে তারা পালন করেন। এই যে কিছুটা নিয়মভঙ্গ করে যেটা জানুয়ারিতে হওয়ার কথা, সেটা তারা ডিসেম্বরের করতে যাচ্ছে এটার একটা উদ্দেশ্য আছে। সেটা হচ্ছে- এই করোনার ভয়াবহতা নতুন করে দ্বিতীয় ধাপে এসেছে। এ সময়ে নির্বাচন করার অর্থ হচ্ছে জনগণের অংশগ্রহণ হবে না। পুরো নির্বাচনের সিস্টেমটা তারা নষ্ট করে ফেলেছে। নির্বাচন কমিশন তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার শেষ অবস্থা তৈরি করেছে। তারই ফলোশ্রুতিতে নির্বাচন কমিশনের এসব কথা। এসময় ইভিএম’র বিরোধীতা করেন ফখরুল।

দেশের কোনো সুখবর বিএনপি নেতাদের গায়ে জ্বালা ধরায়: ওবায়দুল কাদের

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ইসির প্রস্তাবিত আইনে অনেক মৌলিক বিধানই বদলিয়ে ফেলেছে। তারা যে প্রস্তাব করেছে তার একটা বড় অংশ ধারা ৬৬ থেকে আরম্ভ করে প্রায় ৮৪ পর্যন্ত -এর কোনোটাই স্থানীয় সরকারের প্রচলিত যেসব আইন রয়ে গেছে তার কোনটার মধ্যে নেই। এসব আছে বিধি মালার মধ্যে। কিন্তু প্রস্তাবে তো ইসি আগে বলে নাই, বিধিমালা থেকে এনে নতুন আইন করা হবে। অর্থাৎ তারা যেটা জনগণকে বলেছে সেখান থেকে সরে গেছে।

তিনি বলেন, আলাদা আলাদা আইনসমূহকে একীভূত করে একক আইন প্রণয়ন করা হলে ওই একীভূত আইন থেকে পৃথক পৃথক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান খুঁজে খুঁজে বের করে বুঝা বা আয়ত্বে আনা জটিল, কষ্টকর ও দুরুহ হয়ে পড়বে বিধায় কমিশনের এই উদ্যোগ অসঙ্গত ও পরিত্যাজ্য। করোনা মধ্যে সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় রাখা দরকার, যখন সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, স্কুল কলেজ বন্ধ, ভার্চুয়াল মিটিং করা লাগে সে সময়ে ইসি ইউনিয়ন পরিষদে, পৌর সভায়, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশনে কাউকে সম্পৃক্ত না করে, ভোটার ও প্রার্থীদের পরামর্শ-মতামত দেওয়ার সময় বা সুযোগ না দিয়ে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে নতুন একটা আইন করবেন? এর কোনো অর্থ হয় না।

প্রস্তাবিত নতুন আইনের প্রস্তাবে রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এর দীর্ঘদিনের পদবীগুলো বাংলা করণের প্রস্তাব, ফেরারি আসামীদের নির্বাচন করতে না দেওয়া, প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহকে নতুন আইনে অন্তুর্ভুক্ত না করা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক মনোনয়ন দেওয়া, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার পোলিং অফিসার নিয়োগের তালিকা বৈধ্য প্রার্থীদের দেওয়ার ব্যবস্থা না রাখা, ভোট গণনার সময়ে প্রার্থীদের এজেন্টদের না রাখা ইত্যাদি ব্যাপারে দলের আপত্তি তুলে ধরেন নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, আমরা দাবি করছি, অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক উদ্যোগ থেকে কমিশন বিরত থাকবে। এতোসব যুক্তিসঙ্গত কারণ অগ্রাহ্য করে যদি কমিশন একচেটিয়াভাবে প্রস্তাবিত নতুন আইন প্রনয়ণে উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিএনপি দেওয়া আইনের অসঙ্গতিসমূহ দূরীকরণ ও সংগত দাবিগুলো পুরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাবসমূহ সংশ্লিষ্ট আইনে সন্নিবেশিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এককভাবে কোনো আইন প্রনয়ণ করা হলে তা দেশবাসীর কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না।

প্রসঙ্গত, ইসির প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে পর্যালোচনা করতে নজরুল ইসলাম খানকে আহবায়ক করে ৯ সদস্যের কমিটি করে বিএনপি। কমিটি মতামত ও সুপারিশ গত ৩১ অক্টোবরের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় অনুমোদন পায়।