আন্তর্জাতিক

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভারতের রিপাবলিক টিভির প্রধান সম্পাদক গ্রেফতার

৫৩ বছর বয়সী এক ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ভারতের রিপাবলিক টিভির প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে মুম্বাই পুলিশ।

২০১৮ সালের মে মাসে আত্মহত্যা করেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার অন্বয় নাইক ও তার মা কুমুদ নাইক। অন্বয়ের সুইসাইড নোটে অর্ণব গোস্বামী ছাড়া আরও দুইজনের নাম ছিল। অন্যরা হলেন ফিরোজ শেখ ও নীতেশ সারদা। তারা ৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা দেননি বলে সুইসাইট নোটে অভিযোগ করেন অন্বয়। এছাড়া অন্বয় কনকর্ড ডিজাইনার প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন। রিপাবলিক টিভির হয়ে কাজ করেছিল অন্বয়ের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু রিপাবলিক টিভি তাদের টাকা পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করেন অন্বয়। সেই টাকা না পেয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করা হয়।

অন্বয়ের মৃত্যুর পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার একটি মামলা রুজু হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে সেই মামলা বন্ধ করে দেয় রায়গড় পুলিশ। কিন্তু ২০২০ এর মে মাসে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ একটি টুইট করে বলেন, ‘অন্বয়ের মেয়ে আমার কাছে অভিযোগ করেছেন রিপাবলিক টিভির টাকা না দেয়ার বিষয়টি আলিবাগ পুলিশ ঠিক মতো তদন্ত করেনি। সিআইডিকে ওই মামলাটি পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দিচ্ছি’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছে অর্ণব গোস্বামীকে। এরপরই টুইট করে এই গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন প্রকাশ জাভড়েকর ও স্মৃতি ইরানির মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। তারা মহারাষ্ট্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন।এছাড়া গ্রেফতারের সময় অর্ণবকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছেন বলে নিজেদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে রিপাবলিক টিভি।

অর্ণবের গ্রেফতার নিয়ে শিবসেনা সরকারের দিকে আঙুল তুলছেন অনেকে। তবে সেই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘মহারাষ্ট্রে আইনের পালন হয়। কারো বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।’ উদ্ধব ঠাকরের সরকার কারো প্রতি প্রতিশোধ নিতে কোনো পদক্ষেপ নেয় না বলেও দাবি করেছেন তিনি।