Bangladesh Dhaka

বোনের নির্যাতনের প্রতিবাদ,প্রাণ গেল ভাইয়ের

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বোনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মোস্তফা মোল্লা (৪২) নামে এক ভাইয়ের নিহতের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের চরপাচুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পাচুড়িয়া ইউনিয়নের কাশেম মোল্লার মেয়ে মোস্তফা মোল্লার বোন ঝর্না বেগমের বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের চরপাচুড়িয়া গ্রামের ইদ্রিস মৃধার ছেলে রবিউল মৃধার সাথে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রবিউল যৌতুকের জন্য স্ত্রী ঝর্নাকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার রাতে পুনরায় স্ত্রীকে রবিউল বেধড়ক মারধর করলে ভাই মোস্তফা মোল্লাসহ বাবার বাড়ির লোকজন বোনের বাড়ি চরপাচুড়িয়া গিয়ে প্রতিবাদ ও রবিউলকে শাসন করেন। এ সময় রবিউল ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর বড়ভাই মোস্তফাসহ সকলের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও মোস্তফাকে আটকিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এতে মোস্তফা মারাত্মক জখম হন। জখম অবস্থায় তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিলে মোস্তফার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হওয়ায় তাকে ওই রাতেই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তফা মোল্লা বুধবার সকালে মারা যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমান জানান, আমি ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় আছি। এলাকা থেকে শুনেছি মেয়েটিকে বিয়ের পর থেকে স্বামী রবিউল মারধর করতো। গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করার পর মোস্তফা হাসপাতালে মারা গেছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি রেজাউল করীম জানান, খবর পাওয়ার পর সরেজমিন পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি ফরিদপুর মিটিংয়ে আছি। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তদন্তপূর্বক পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলার্থে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।