খেলাধুলা

অনূর্ধ্ব-২১ জুনিয়র হকি এশিয়াকাপের স্বপ্ন: হিমেল

 

হুমায়ুন কবির, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
অনূর্ধ্ব-২১ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখেন ইয়াসিন আরাফাত হিমেল। সেই সামর্থ্য নাকি তাদের রয়েছে- এমনই মন্তব্য কিশোরগঞ্জের এই উদীয়মান-প্রতিভাবান গোলরক্ষকের। চলতি বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আসরটি। করোনা ভাইরাসের কারণে যথাসময়ে তা মাঠে গড়ায়নি। আসরটি আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই আসরের প্রথমপর্বে নিজেদের সেরাটা দিয়ে মূল পর্বেই শুধু নয়; ফাইনালেও খেলার স্বপ্ন দেখেন ইয়াসিন আরাফাত হিমেল। এ স্বপ্নের নেপথ্য নায়ক যুব দলের কোচ মামুনুর রশীদ। হিমেলের প্রিয় মামুন স্যারই নাকি তাদের ভেতর এই স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন। এখন সেটিকে বাস্তবে রূপ দেয়ার অপেক্ষায় তারা!

জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি সামনে রেখে দু’দফা অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালিত হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে জানুয়ারিতে ক্যাম্প শুরু হয়ে করোনার কারণে মার্চে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গেল ১০ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় ধাপের অনুশীলন চলছে। ফিটনেস ট্রেনিং থেকে নিজেদের ভেতর ম্যাচ অনুশীলন- শিষ্যদের সব রকমেই ঝালিয়ে নিচ্ছেন কোচ মামুনুর রশীদ। ক্যাম্পে কাটানো দিনগুলো প্রসঙ্গে ইয়াসিন আরাফাত হিমেল জানান, করোনার কঠিন সময়েও আমরা বাহিনীতে (হিমেল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খেলোয়াড়) অনুশীলন করেছি। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করেছি। ক্যাম্পে এসে মামুন স্যারের মতো একজন সুদক্ষ, ভালোমানের কোচের অধীনে অনুশীলন করার সুযোগ পাচ্ছি। মামুন স্যার হাতে-কলমে আমাদের ভুলগুলো শুধরে দিচ্ছেন। জাতীয় দলের ক্যাম্পে মূলত নিজেকে সংশোধনের অনেক সুযোগ পাওয়া যায়। এখানে বাংলাদেশের টপ লেভেলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মেশার একটা সুযোগ তৈরি হয়। তাদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। খেলার বাইরে শৃঙ্খলাবোধসহ জীবন চলার দীক্ষাটা নেয়া যায়।

করোনায় তিন দফা পিছিয়ে গেছে জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি আসরের তারিখ। এটি একটি বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট। বয়সের একটা হিসাব এখানে রয়েছে। আগামী বছর বাংলাদেশের অনেক খেলোয়াড়ের বয়স ২১ পেরিয়ে যাবে। হিমেলের যদিও এমন কোনো সমস্যা নেই। তবে ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৩৬ জনের ৯ জনের এই সমস্যা রয়েছে। যাদের ছাড়া আবার দল গঠনের কথা ভাবাও যায় না। করোনার কারণে বয়সের একটা ছাড় নাকি পাওয়া যাবে আশাবাদী হিমেল! একই সঙ্গে তিনি এটাও জানান যে, বয়সের সমস্যা শুধু তাদের দলের জন্যই নয়; অন্য দলগুলোর। এ ব্যাপারে হিমেল বলেন, ‘বয়সের যে বিষয়টা বার বার আসছে সেটা শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। এটা অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও। আমাদের যে ৬-৭ জন সিনিয়র প্লেয়ার আছেন তাদের ছাড়া সত্যি বলতে টিম গড়তে গেলে অনেক চিন্তায় পড়তে হবে। যে ৯ জনের বয়সের কথা বার বার আসছে, তাদের ছাড়া এই দলটা আসলে ভাবাই যায় না। তারা থাকলে নিজেদের মাঠে আমরা ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখি। তারা না থাকলে নতুন করে ভাবতে হবে। সব দলগুলো নিশ্চয়ই এ বিষয়ে হকির সর্বোচ্চ মহলে আলোচনা করবে। একটা সমাধান নিশ্চয়ই বের হবে।’

প্রাথমিক দলে থাকা ৫ জন গোলরক্ষকের একজন হলেন কিশোরগঞ্জের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত হিমেল। সে দলে তিনিই সবার সিনিয়র। তবে বিপ্লব কুজুরের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশি। এছাড়া অভি, নয়ন, আল-আমিনদেরও সেরার কাতারে রাখছেন হিমেল। ৫ জনের মধ্যে থেকে দুজন চূড়ান্ত দলে জায়গা পাবেন। ক্যাম্পে থাকা গোলরক্ষকদের মূল্যায়ণ প্রসঙ্গে হিমেল বলেন, ‘আমি ৮-১০ বছর ধরে খেলছি। সত্যি বলতে যে কোনো ম্যাচ-টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে গোলরক্ষকরাই ৬০/৭০ ভাগ ম্যাচ খেলেন। ম্যাচের অর্ধেকের বেশি ঝড়ই যায় গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে। এটা বহু বছর ধরেই দেখছি। আমাদের যে ৫ জন গোলরক্ষক আছেন, সবাই কোয়ালিটি সম্পন্ন। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, যে ট্রায়ালে ভালো করবে, অনুশীলন ক্যাম্পে শেষ পর্যন্ত ভালো করবে সে-ই চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিবে। আমি আশাবাদী আমাদের ৫ জনের যে-ই খেলুক, নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েই খেলবে। গোলরক্ষক থেকে বাংলাদেশ এবার ভালো সাপোর্ট পাবে।

আবারও ব্যর্থ কোহলি

৫ জনের মধ্যে কে সেরা- এই প্রশ্নে হিমেল জানান, ‘ক্যাম্পে থাকা গোলরক্ষকদের মধ্যে আমি সিনিয়র। তবে বিপ্লবের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার এবং সিনিয়র দলে ক্যাম্প করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদের চেয়ে বিপ্লবকে তাই কিছুটা এগিয়ে রাখব। আমারও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আসরে ক্যাম্প করার অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের দুজনের অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আসলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ মানে অনেক বড় চাপ। এখানে থাকা ৫ জনের ভেতর পাথর্ক্য উনিশ-বিশের। তবে বিপ্লব আর আমার ভালো দিক হল আমরা অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ, জাতীয় দলের ক্যাম্প করেছি। বিপ্লব বিমান বাহিনীর ক্যাম্পে আছে, আমি সেনাবাহিনীর হয়ে খেলছি। অনেক সিনিয়র ভাইদের সঙ্গে ক্যাম্প করেছি। বিপ্লবও করেছে। এই হিসাবে বিপ্লব এবং আমাকে একটু এগিয়ে রাখছি। এর বাইরে আমাদের তিনটি করে প্রিমিয়ার লিগ খেলারও অভিজ্ঞতা আছে। বাকি যারা আছে; অভি, আল আমিন, নয়ন ওরাও খারাপ না। বিকেএসপি থেকে সবে বের হয়েছে। অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। ওদের পারফরম্যান্সও ভালো।’

অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে খেলার অভিজ্ঞতা অনূর্ধ্ব-২১ আসন্ন হকি টুর্নামেন্টে কাজে লাগাতে চান ইয়াসিন আরাফাত হিমেল। ২০১৬ সালে ওই আসরে ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। যে ম্যাচে পূর্ণ সময় মাঠে ছিলেন হিমেল। ম্যাচটি ৫-৪ গোলের ব্যবধানে জিতেছিল হিমেলরা। এর বাইরে হিমেলের অনেক ঘরোয়া লিগ-টুর্নামেন্ট খেলারও অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৩ সালে আজাদে খেলার মধ্য দিয়ে ঘরোয়া লিগে পথচলা শুরু। এরপর আরো যে দুটি লিগ হয়েছে সেখানে অ্যাজাক্সেও জার্সিতে মাঠে নেমেছেন বিকেএসপির এ সাবেক শিক্ষার্থী। স্কুল হকি দিয়ে ২০১০ সালে যাত্রা শুরু হিমেলের। সেখান থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ জাতীয় বয়সভিত্তিক দলের ক্যাম্পে। হকিতে হিমেলের শুরুর গল্পটা শুনুন তার মুখেই, ‘২০১১ সালে বিকেএসপিতে সপ্তম শ্রেনীতে ভর্তি হই। আলমগীর আলম স্যারের কারণেই মূলত আমার বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া। ওনি আমাকে নির্বাচিত করেন। স্যারের ঋণ আমি জীবনেও শোধ করতে পারব না।