অপরাধ

মডেল বানানোর নামে ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ

রাতারাতি মডেল হওয়ার নেশায় অনেক স্বপ্নরাঙা তরুণ চোখ ডুবে যায় অন্ধকার চোরাগলিতে। তাদের স্বপ্নকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে একটি চক্র। মডেল বানানোর নামে ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে, যারা মূলত ফাঁদ পাতে সামাজিক নানা যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে। গ্লামার জগতের কর্ণধার এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সচেতনতা আর নিয়ন্ত্রণই পারে তা রুখে দিতে।

স্বপ্ন রাঙানো চোখ ছবি আঁকে মায়াময় জগতের। যেখানে কোটি মানুষ তাকে দেখবে মুগ্ধ চোখে। স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে তরুণ মন অনেক ক্ষেত্রেই বাধা মানে না।

অক্টোবর মাসের ১৩ তারিখে এমনই এক চক্র থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে ১৬ বছরের এক মেয়েকে। গ্রেফতার করে চক্রের ৩ সদস্যকে।

তরুণীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস

এখন অপরাধী খুব সহজেই ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রতারণার ফাঁদ পাতে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার এস এম আজিম উদ্দিন বলেন, দু-একজন ধরার মাধ্যমেই সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু না। এসব বেড়েই চলছে। তাই গোরা থেকেই এদের ধরতে হবে।

এদিকে মেয়ের বাবা এসব প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের নিয়ে অভিভাবকদের প্রতি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, অবুঝ বাচ্চা যাদের মডেল বানানোর লোভ দেখিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে তাদের সবার যেন বিচার হয়।

অন্ধকার এই জগতের নিদারুণ অভিজ্ঞতার জানান এক তরুণ। স্বপ্নকে ধরতে গিয়ে কীভাবে পদে পদে বিপদে পড়তে হয়েছে তাকে।

সেই তরুণ বলেন, আমার থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছে। মহড়া শেষ করে বাসায় আসি। সকালে ফোন দিয়ে দেখি নম্বর বন্ধ। আমি সবাইকে চিনতাম না।

কি কি দরকার হয় একজন মডেল হতে গেলে? নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই নতুনদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালাচ্ছেন বুলবুল টুম্পা।

তিনি বলেন, সহজ উপায়ে কখনই মডেল হওয়া যায় না। যিনি আপনাকে উঠাবে তিনিই চাইলে আবার আপনাকে নামিয়ে ফেলতে পারবে।

ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেল বলেন, একটা মডেলকে নিজের কালচার সম্পর্কে জানতে হবে। নিজের দেশ সম্পর্কে জানতে হবে। দেখতেও সুন্দর হতে হবে। এসব কিছু মিলিয়েই তাকে একটা প্যাকেজ হতে হবে।

শিল্পের নামে যারা অপরাধে জড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে অভিভাবক সংস্থাগুলো?

এ প্রসঙ্গে ডিরেক্টরস গিল্টের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক বলেন, শট ফিল্ম বানানোর নামে অনেক কেই নিয়ে আসা হয়। তবে তারা যে কেমন কোয়ালিটির প্রোডাকশন বানাচ্ছে তাতো আমরা ইউটিউব দেখলেই বোঝা যায়।

যে কোন ভিজুয়াল উপস্থাপনার জন্য লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়াকে মনিটরিংয়ের মধ্যে আনতে চলছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা, যা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।