Bangladesh

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া মেটাতে কবিরাজের কাছে গিয়ে ধর্ষণের শিকার

স্বামীর সাথে বনিবনা হচ্ছিল না। ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। মন নিজের প্রতি স্বামীকে আকৃষ্ট করতে ময়মনসিংহের নান্দাইলে কবিরাজের বাড়িতে এসে গত বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বাগেরহাটের এক নারী(২৫)। নির্যাতিতা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া মেটাতে কবিরাজের কাছে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় ।

এ ঘটনায় গত রোববার নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নির্যাতিতার ডাক্তারি সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে গ্রেফতার হওয়া কবিরাজ মুক্তোল হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপির সংস্কৃতি ষড়যন্ত্র আর মিথ্যাচার: ওবায়দুল কাদের

মামলার এজাহার ও ধর্ষণের শিকার নারী জানান, তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লারহাটে হলেও পাঁচ বছর আগে বিয়ে হওয়া স্বামীকে নিয়ে থাকতেন ঢাকায়। বেশ কিছুদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না তার। এ অবস্থায় বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেও স্বামীকে কাছে আনতে পারেননি তিনি। এক বান্ধবীর পরামর্শে নান্দাইলে কানুরামপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে পেট্রোল পাম্পের কাছেই কবিরাজ মুক্তোল হোসেনের বাড়িতে আসেন ওই নারী। কবিরাজ দাম্পত্য সম্পর্ক ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা ও একটি খাসি দাবি করেন। পরে কবিরাজের সাথে ১০ হাজার টাকায় রফা হয়।

ওই নারী বলেন, কবিরাজি করার জন্য ওই নারীকে সাতদিন কবিরাজের বাড়িতে থাকতে হবে। এই সাতদিন তাঁকে তাবিজ-কবজ দিয়ে নানা ধরনের কাজ করতে হবে বলে জানান কবিরাজ। নানা ধরনের কথাবার্তা বলে কবিরাজ একটি বিশ্বাসের আবহ তৈরি করেন। তাই তিনি তাঁর বাড়িতে থাকতে রাজী হন। ষষ্ঠতম দিনে এসে তিনি কবিরাজ মুক্তোল হোসেনের অন্য রূপ দেখতে পান।

কবিরাজ তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলেন, সাতজন নারীকে তাঁর ডেরায় এনে নিখোঁজ করেছেন। তুই হলি আট নম্বর নারী। বেশি বাড়াবাড়ি করলে কেউ তোর খোঁজ পাবে না। এ রকম ভয় দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে কবিরাজ তাকে ধর্ষণ করে। নির্যাতিতা জানান, সম্পর্ক খারাপ হলেও তাঁর স্বামী ও দুটি সন্তান রয়েছে। তিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত কবিরাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রেফতারকৃত কবিরাজ মুক্তোল হোসেনকে আদালতে প্রেরণ করা হলে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক।