খবর

দিনমজুর থেকে কোটিপতি, আছে আলিশান বাড়ি!

দিনমজুর থেকে কোটিপতি, আছে আলিশান বাড়ি! এখন তিনি সরকারি খাবার খেয়ে সরকারি ভবনে বসবাস করছেন। নিজের আলিশান বাড়িতে শুনসান নীরবতা। মাদক ব্যবসা করে গড়ে তুলেছেন অট্টালিকা, হয়েছেন বিশাল সম্পদের মালিক। সেই মাদক সম্রাট শিবগঞ্জের আহসান মাদকসহ আটকের পর রয়েছে এখন জেলে। আহসান আলীর জমজ ভাই মোহসিন ছয় বছর আগে ভারত থেকে গরু পাচারের জন্য ভারতে চোরাইপথে গিয়ে বিএসএফ এর গুলিতে মারা যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা শিবগঞ্জ। উপজেলার কয়েকটি সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে ফেনসিডিল-হেরোইন ও ইয়াবা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে প্রায় আটক হচ্ছে ইয়াবার চালান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শীর্ষ মাদক কারবারি আহসান আলী ও তার সহযোগী মমিনকে পাঁচ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

রাজধানীর ৪২ রুটে চলবে বাস: তাপস

শনিবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলার ৫নম্বর বাঁধ এলাকা থেকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ আহসান আলী ও মমিন ওরফে ভাদুকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মাদকসম্রাট আহসান আলী (৩৩) শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের বিশ রশিয়ার গ্রামের মৃত আব্দুল বাশির ওরফে সেন্টুর ছেলে। আটক মমিন (২৮) একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের একরামুলের ছেলে।

স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ সীমান্ত পথে ১০ বছর ধরে মাদকের কারবার করছেন আহসান আলী। এক সময়ের দিনমজুর আহসান। তার বাবা আব্দুল বাশির মারা গেছেন প্রায় দুই মাস আগে। দিনমজুর আহসানের উত্থানের কাহিনী সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। মাদক-ব্যবসা করে দিনমজুর থেকে এখন কোটিপতি আহসান। মালিক হয়েছেন শিবগঞ্জে চারতলা বাড়ি, রাজশাহী শহরে প্লট, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও অগাধ সম্পদের।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অরঙ্গাবাদ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ওয়াহেদপুর ও ফতেপুর সীমান্ত পথ দিয়ে আহসানের ইয়াবা চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আহসান চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত পথে ইয়াবা পাচারের সিন্ডিকেট প্রধান। ভারতের চাঁদনিচক বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন ফতেপুর গ্রামের কয়েকজন আহসানের মাদক বাহকদের ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবা সরবরাহ করে থাকে। এসব ইয়াবা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন আহসান ও তার সহযোগীরা।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মশিউর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ নভেম্বর শনিবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলার ৫নম্বর বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ হাজার ইয়াবাসহ আহসান ও মমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই অনুপ কুমার সকার জানান, আটক আহসান ও মমিন আটকের পর জেলহাজতে রয়েছে।