অপরাধ

আত্মগোপনে থেকে ‘অপহরণ নাটক’ সাজিয়েছিলেন তিথি: সিআইডি

আত্মগোপনে থেকে ‘অপহরণ নাটক’ সাজিয়েছিলেন তিথি। ১৮ দিন নিখোঁজ থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তিথি সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা এক মামলায় বুধবার তাকে নরসিংদীর মাধবদীর পাঁচদোনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে দূরসম্পর্কীয় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী তিথির নিখোঁজের ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু তার ‘অপহরণ নাটক’ সাজানোর গল্প বেরিয়ে আসে সিআইডির অনুসন্ধানে। 

বৃহস্পতিবার মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিথি সরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি বিভিন্ন সময় ধর্মীয় উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়েছেন এবং বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেছেন, যার ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেন। গত ২৫ অক্টোবর পল্লবীর বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেননি তিনি। পরে তার পরিবারের সদস্যরা পল্লবী থানায় নিখোঁজ জিডি করে।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি জামিল আহমদ বলেন, ২৫ অক্টোবর পল্লবীর বাসা থেকে বেরিয়ে তিথি প্রেমিক শিপলু মল্লিকের সঙ্গে বাগেরহাটে যান এবং তারা বিয়ে করেন। এরপর ৯ নভেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে নরসিংদীর ওই বাড়িতে আত্মগোপন করেন তিথি। এর আগে সিআইডি অনুসন্ধান করতে গিয়ে ৩১ অক্টোবর দেখতে পায়, সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ের চারতলা থেকে তিথি সরকারকে ‘হাত পা-বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে’ বলে একটি মিথ্যা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে। এটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রকৃতপক্ষে সিআইডিতে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। একেবারেই গুজব ছড়ানো হয়েছে। গুজব রটনাকারী নিরঞ্জন বড়াল নামের একজনকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরঞ্জনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় গত ২ নভেম্বর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে সিআইডি।

পাপুল দম্পতিসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ডিআইজি জামিল আহমদ বলেন, তিথি নিজেই স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল এভাবে আত্মগোপনে থেকে নিজেকে লুকিয়ে অপহরণের দায়ভার অন্যদের ওপর চাপিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সংক্রান্ত ঘটনা থেকে রেহাই পাবেন বা ঘটনা অন্যদিকে ধাবিত হবে। বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তারের আগে তার স্বামী শিপলু মল্লিককে বেলা পৌনে ১২টায় রাজধানীর কাপ্তানবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ অন্যান্য অভিযোগে আরেকটি মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।